আলমডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কয়েকটি ব্লকের ধান ক্ষেত ছত্রাকজনিত নেকব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। হেক্টরের পর হেক্টর ধানক্ষেতের শীষে ছত্রাকজনিত এই রোগ বাসা বেঁধেছে। এতে কৃষকদের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখনই এর প্রতিকার না করলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার একেএম হাসিবুল হাসান জানান, এখনও উপজেলার পুরো ব্লকগুলোতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়নি। কয়েকটি ব্লকে দেখা দিয়েছে। আমরা এর প্রতিষেধক হিসেবে স্ট্রবিন গ্রুপের ছত্রাকনাশক ওষুধ আক্রান্ত জমিতে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। আর বাকি ব্লকগুলোতে ব্লাস্ট রোগ যাতে না ছড়াতে পারে সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।
ইতোমধ্যে উপজেলার ভাংবাড়িয়া, পাইকপাড়া ও খাসকররার একটি ব্লকে নেক ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্লাস্ট রোগটি সাধারণত বাতাসে ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয়। এই জন্যই কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এই রোগে আক্রান্ত ধানের হলুদাভ রং প্রায় স্বাভাবিকই থাকে। আবার কখনও কখনও ধূসর রং ধারণ করে। তবে আস্তে আস্তে ধান হয়ে পড়ে দানা শুন্য। সেই সাথে ধানের পাতা শুকিয়ে যায়।
তবে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (ব্লক সুপারভাইজার) ব্লকগুলোর ধানের জমি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখলে এই রোগ আক্রান্ত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানান কৃষকরা। উপজেলার খাসকররার একটি ব্লকে গিয়ে দেখা যায় ৫শ হেক্টর ধানের জমির একটি অংশ ইতোমধ্যে নেকব্লাস্ট রোগ ধানের শীষে চেপে বসে আছে। এই ধানের ভবিষৎ চিটা দিয়ে শেষ হবে।
খাসকররা ব্লকের দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম জানান, আমি তিনদিন আগে এই রোগের উপস্থিতি টের পেয়েছি। কয়েক হেক্টর জমিতে ধান গবেষণা কেন্দ্র অনুমদিত ট্রাইসাইক্লাজল স্প্রে পানির সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। বড় ধরনের ক্ষতির কোন আশঙ্কা নাই।
ইত্তেফাক/আরকেজি
