‘উজানে মৃত্যু’ পালাকারের একটি চমত্কার নাট্য পরিবেশনা

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:১০

g মা হ বু ব  আ ল ম

 

একটি বালি হাঁস উড়ে যায় দিগন্তের দিকে। ছুটে চলে একা এক নিঃসঙ্গ নদীর বুকে। সেই নদীর বুকে নৌকা নিয়ে ছুটে চলে মাঝি। বেহুঁশের মতো নৌকা টানতে থাকে সে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নৌকার দাঁড় ধরে রাখতে হয় সাদা পোশাক পরিহিত ব্যক্তিকে। তারা দুজন ছুটে চলে উজানের দিকে। নৌকার মাঝে আরেকজনের সাক্ষাত্ পায় মাঝি। সে কালো পোশাকধারী ব্যক্তি। বোঝা যায় সে এক আত্মা—অন্তরাত্মা। মাঝির সঙ্গে তার কথা হয়; তার আকৃতি, অবয়ব, কথা সব বোঝে মাঝি। সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাকে দেখতে পায় না কিন্তু আঁচ করে তার অস্তিত্ত্ব। মনে হয় তাকে কোনো এক ছায়া ধরে রেখেছে বা ঘিরে রেখেছে। নাটকের শেষ দিকে অবশ্য তাকে টের পায়। কিন্তু ততক্ষণে মাঝির সঙ্গে তার নানা শলাপরামর্শ, বাক বিতণ্ডা হয়ে যায়। বেহুঁশের মতো নৌকা টানতে থাকা মাঝির ওপরে রেগে যায় সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি। মাঝির মনে পড়ে যায় তার স্ত্রীর কথা; মনে পড়ে তার মৃত তিন সন্তানের কথা। মৃত তিন সন্তানের কল্প দৃশ্য আর মৃত সন্তানের দৃশ্য নির্দেশক শামীম সাগর যেভাবে মঞ্চে এনেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ। আলো বদলে ফেলে, তিনটি পুতুল দিয়ে তিন সন্তানের কল্পনাকে সুন্দর ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। 

পালাকার প্রযোজনা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর এই ‘উজানে মৃত্যু’ নাটকটি তাদের দলের স্টুডিও প্রযোজনা। আর ‘উজানে মৃত্যু’ নাটকে আরো একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে নাটকে অভিনেতা হিসেবে আমিনুর রহমান মুকুল, কাজী ফয়সল ও বাবর খাদেমীর সংযুক্তি। তবে কাজী ফয়সলের আঙ্গিক অভিনয়ের পাশাপাশি বাচিক অভিনয় যদি আরেকটু শানিত হয় তাহলে বোধহয় ষোলকলা পূর্ণতা পাবে। আর সেইসঙ্গে মাঝি চরিত্রে আমিনুর রহমান মুকুলের শুরুর দিকে যদি আরেকটু প্রজেকশন বাড়ানো যায়, তাহলে তার কোনো সংলাপ শ্রবণে দর্শক বঞ্চিত হবে না।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উজানে মৃত্যু নাটকে নির্দেশক শামীম সাগরকে শিল্প নির্দেশনায় সহযোগিতা করেছেন আমিনুর রহমান মুকুল আর নাটকের কোরিওগ্রাফি করেছেন অনিকেত পাল বাবু। দারুণ দারুণ সব কোরিওগ্রাফি। তবে এই নাটকের সবচেয়ে ভালো আরেকটি অনুষঙ্গ হলো নাটকের আলো। অসাধারণ কিছু মুহূর্ত তৈরি হয় বাবর খাদেমীর আলোর জাদুতে। আর অজয় দাশের সংগীতের ব্যবহার খুবই সামঞ্জস্য মনে হয়। সব মিলিয়ে ‘উজানে মৃত্যু’ পালাকারের একটি চমত্কার নাট্য পরিবেশনা।