চট্টগ্রাম মেডিক্যালে বাইরের লোক দিয়ে চলছে সেবা কার্যক্রম

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০১:৪৭

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে প্রচুর জনবল থাকলেও বহিরাগত লোক দিয়ে চলছে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা কার্যক্রম। স্থায়ী জনবল সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। সকালে অফিসে এসে হাজিরা দিয়ে উধাও চতুর্থ শ্রেণির এ সব কর্মচারী। কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় কর্মচারীরা কাজে ফাঁকি দিলেও ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। ফলে বহিরাগত লোক দিয়ে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, রোগী স্থানান্তর ও নিরাপত্তার কাজ করাতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছে ৩৬৬ জন। এর মধ্যে পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে ১৩৬ জন, অফিস সহায়ক বা পিয়ন ১৮৩ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ১৬ জন, সর্দার ৮ জন ও কুক মশালচি ২৩ জন। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে নিয়মিত কার্যক্রমে বহিরাগত লোকের কারণে চিকিত্সাধীন রোগীদের ব্যবহূত জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। নানা ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। ওয়ার্ডে প্রবেশের ক্ষেত্রে রোগীর স্বজন ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে।

গত কয়েক বছর যাবত্ জনবলের সংকটের কথা বলে বহিরাগত লোক দিয়ে চলছে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম। বিনাবেতনে ‘বিশেষ আয়া’ নিয়োজিত করে জরুরি বিভাগ থেকে হাসপাতালের অভ্যন্তরে রোগী আনা নেয়া, রোগী স্থানান্তর ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হচ্ছে। এ ধরনের প্রায় ৪৫০ জন বিশেষ আয়া কর্মরত রয়েছে। নিয়ম রয়েছে এ সব আয়া সেবা বাবদ প্রতি রোগীর কাছ থেকে দৈনিক ৫০ টাকা আদায় করতে পারবেন। কিন্তু এ সব আয়া প্রতি রোগীর কাছ থেকে ৪০০/৫০০ টাকা হারে অর্থ আদায় করছে। চাহিদা অনুপাতে টাকা না দিলে রোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আবার ওয়ার্ড সংশ্লিষ্ট আয়া ও দারোয়ানরা প্রাইভেট ল্যাবের দালালদের সাথে যোগসাজশ করে রোগীর রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহে সহযোগিতা করছে।

জানা যায়, নিরাপত্তা কর্মী সংকটে বর্তমানে ৭১ জন আনসার নিয়োগ করা হয়েছে। তারা হাসপাতালের ওয়ার্ডের প্রবেশ মুখে, ফটকে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। এখন আনসার সদস্যরাও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান।

ওয়ার্ডের অধিকাংশ টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী। মলমূত্র পানিতে ভাসছে। ওয়ার্ডের ফ্লোর নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না। হাসপাতালে উঠা-নামার সিঁড়িগুলো নোংরা। অথচ স্থায়ী ১৩৬ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে। তবে চিকিত্সকদের ব্যবহূত টয়লেটগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ঠিকাদারের মাধ্যমে নতুন করে ৩০০ জন লোক নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রতিজন লোকের মাসিক মজুরী নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৯০০ টাকা। যাতে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের লোভ না থাকে।

জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আগামী জুলাই মাসের শুরু থেকে স্পেশাল আয়াগুলো বাদ দেয়া হবে। এই কাজ করানোর জন্য আউটসোর্সিয়ে ৩০০ লোক নিয়োগ করা হবে। তবে প্রথম পর্যায়ে নেয়া হবে ১০০ জন। আর নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আরো ২৯ জন আনসার নেয়া হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু