তালুকদার খালেকের তথ্য গোপন অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:২৩
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর আনা হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কেসিসি নির্বাচনের আপিল কর্তৃপক্ষের এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে এ শুনানি চলে। এ সময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ তাদের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। 
 
শুনানি শেষে বের হয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খণ্ডন করার জন্য যেসব সাপোর্টিং কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল, তিনি সেগুলো আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। শুনানিতে আপিল কর্তৃপক্ষ দু’পক্ষের কথা শুনেছেন এবং দু’পক্ষের আইনজীবীদের সামনে কাগজপত্র দেখেছেন। এখন আপিল কর্তৃপক্ষ যে সময় রায় দেওয়ার সে সময় রায় দেবেন। 
 
তিনি বলেন, ‘আমার কথা একটাই- যারা অভিযোগ দেন, আসলে এগুলো না করে তারা জনগণের কাছে যাক। ১৫ তারিখ ভোট হবে, জনগণ যাকেই ভোট দেবে তিনিই মেয়র নির্বাচিত হবেন। অতএব অফিসে খোঁচাখুঁচি করে কোনো লাভ নেই’।  
 
পরে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন, আমি আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়েছিলাম। ওনি (তালুকদার আব্দুল খালেক) একটি কাগজ দাখিল করেছেন, যা অসম্পূর্ণ। ব্যাংকের একটি কাগজ জমা দিয়েছেন, যাতে শুধুমাত্র এমডির স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের কোনো অনুমোদন নেই। যেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির যে কাগজ জমা দিয়েছেন সেটিও গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া তিনি (তালুকদার আব্দুল খালেক) বলেছেন, ইস্টার্ণ পলিমার লিমিটেড থেকেও তিনি কুইক (ছেড়ে) করেছেন। আমার উক্ত তিনটি অভিযোগের একটিরও স্বপক্ষে তিনি যথাযথ কাগজপত্র দিতে পারেননি। আশা করছি, আপিল কর্তৃপক্ষ এর সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর তা যদি না হয়, তাহলে হলফনামার দরকার ছিল না। বিদ্যমান আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে কেউ যাতে বেরিয়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে দেখতে হবে। আর তা যদি না হয় তা হবে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত। 
 
দুই মেয়র প্রার্থীর শুনানি শেষে বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, দুই পক্ষের শুনানি শুনেছি। এখন নির্ধারিত (তিন দিনের মধ্যে) সময়ের মধ্যেই রায় দেওয়া হবে। 
 
উল্লেখ্য, খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ১৬ এপ্রিল রিটানিং কর্মকর্তা এবং ১৭ এপ্রিল নির্বাচনী আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তালুকদার আব্দুল খালেক সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনির্ভাসিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেডের পরিচালক ও সর্বময় নিয়ন্ত্রণকারী। এখান থেকে তিনি নিয়মিত বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেন। অথচ, নির্বাচনী হলফনামায় এসব তথ্য গোপন করেছেন তিনি। এমনকি ইস্টার্ণ পলিমার লিমিটেডের নেয়া ঋণ তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। 
 
এছাড়া দলীয় মনোনয়নপত্রে তার ভোটার নম্বরও উল্লেখ করা হয়নি। 
 
ইত্তেফাক/কেকে