আবাহনী, দোলেশ্বরের জয়
স্পোর্টস রিপোর্টার
জমে উঠছে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শিরোপার লড়াই। বাকি দলগুলোর চেয়ে চার পয়েন্ট এগিয়ে থেকে সুপার লিগ শুরু করেছিল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। গতকাল সেই ব্যবধান নেমে আসল দুইয়ে। প্রিমিয়ার লিগে টানা নয় ম্যাচ জয়ের পর হারের স্বাদ পেল রূপগঞ্জ। তাদের জয়রথ থামিয়ে দিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে রূপগঞ্জকে চার উইকেটে হারিয়েছে শেখ জামাল।
গতকাল সুপার লিগের অপর দুই ম্যাচে বিকেএসপিতে আবাহনী ৪৫ রানে পরাজিত করেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে, মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রাইম ব্যাংকের বিরুদ্ধে সাত উইকেটের জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব।
সুপার লিগের দুই রাউন্ড শেষে রূপগঞ্জের সংগ্রহ এখন ১৩ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে আবাহনীর ২০, প্রাইম ব্যাংক, দোলেশ্বর, শেখ জামালের ঝুলিতে আছে ১৬ পয়েন্ট করে, মোহামেডানের আছে ১২ পয়েন্ট। তাই শিরোপার লড়াইটা কার্যত রূপগঞ্জ-আবাহনীর মাঝেই থাকছে।
ফতুল্লায় রূপগঞ্জের হারের জন্য দায়ী ব্যাটসম্যানরা। ৪৯.৩ ওভারে ১৭১ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল দলটি। মোহাম্মদ নাঈম ৫৮, রিশি ধাওয়ান ২৩, নাঈম ইসলাম ১৯, জাকের আলী ১৭, মুমিনুল ১৫ রান করেন। শেখ জামালের খালেদ চারটি, তাইজুল দুটি উইকেট পান। বড় পুঁজি না পেলে রূপগঞ্জের বোলাররা লড়াই করেছেন ভালোই। নয় বল আগে ম্যাচ জিতেছিল শেখ জামাল। ৪৮.৩ ওভারে ছয় উইকেটে ১৭২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে নুরুল হাসান সোহানের দল। ইলিয়াস সানি ৫৮, সোহান ২৯, তানভির হায়দার অপরাজিত ৪৩, তাইজুল অপরাজিত ১৩ রান করেন। রূপগঞ্জের নাবিল সামাদ তিনটি, রিশি ধাওয়ান দুটি উইকেট পান। অলরাউন্ডার ইলিয়াস সানি ম্যাচ সেরা হন।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে এবার লিগে টানা দ্বিতীয়বার হারালো আবাহনী। বিকেএসপিতে আগে ব্যাট করে সাত উইকেটে ৩০৪ রানের বড় স্কোর গড়েছিল আবাহনী। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিন ব্যাটসম্যান। সাব্বির ৬৪, শান্ত ৩৬, মিঠুন ৫৬, মোসাদ্দেক অপরাজিত ৫৪, সাইফউদ্দিন ৪১ রান করেন। মোহামেডানের শফিউল তিনটি, রাহাতুল ফেরদৌস দুটি উইকেট নেন। জবাবে ৪৬.৩ ওভারে ২৫৯ রানে অলআউট হয়ে যায় মোহামেডান। চার রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন রকিবুল। তিনি ৯৬ রান করেন। এছাড়া আশরাফুল ৬৮, সোহাগ গাজী ২৮ রান করেন। আবাহনীর মাশরাফি-মোসাদ্দেক তিনটি করে, সৌম্য দুটি উইকেট পান। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে আবাহনীর অধিনায়ক মোসাদ্দেক ম্যাচ সেরা হন।
মিরপুরে প্রথমে ব্যাট করা প্রাইম ব্যাংক ৪৮.১ ওভারে ১৬৯ রানে অলআউট হয়। অলক কাপালি ৬১, আল-আমিন ৩২, আরিফুল ২৭, মনির ২৩ রান করেন। দোলেশ্বরের ফরহাদ রেজা চারটি, মানিক-তাইবুর দুটি করে উইকেট নেন। পরে ৪৩.৪ ওভারে তিন উইকেটে ১৭২ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় দোলেশ্বর। সাইফ হাসান ৫৫, ফরহাদ রেজা অপরাজিত ৪১, মার্শাল আইয়ুব অপরাজিত ২৫, ফরহাদ হোসেন ২২, জসিমউদ্দিন ২১ রান করেন। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দোলেশ্বরের অধিনায়ক ফরহাদ রেজা ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান।
