কুষ্টিয়া মিরপুরের ২১শে পদকপ্রাপ্ত করিম শাহ'র খবর রাখে না কেউ

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:১৩

নিজ জন্মস্থানেই অবহেলিত কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার একমাত্র রাষ্ট্রীয় ২১শে পদকপ্রাপ্ত বাউল করিম শাহ। নিজ উপজেলার একটা বড় অংশসহ তরুণ প্রজন্ম জানে না বাউল শিল্পী করিম শাহের প্রকৃত ইতিহাস।

মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত এই বাউল শিল্পীর দাফন করা হয় মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে তার শিষ্য আকমান ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন বাগানে। সেখানে চরম অযত্ন আর অবহেলায় রয়েছে তার কবর।

করিম শাহর মৃত্যুর ২ বছরের মাথায় ৫ এপ্রিল-২০১৬ সালে তার শিষ্য আকমান ফকিরও মারা যান।

জীবদ্দশায় ফকির লালন শাহকে বাউল করিম শাহ নিজ জীবনের চেয়েও বেশি আপন করে নিতে পেরেছিলেন। যার ফলস্বরুপ বাউল করিম শাহ দেশের অন্যতম সেরা ‘একুশে পদক’ পেয়েছিলেন।

পদক প্রাপ্তির আগে থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিদারুন অর্থকষ্টে কেটেছে তাঁর জীবন। এক পর্যায়ে করিম শাহ চিকিৎসার প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় সম্মানীর একুশের পদক বিক্রিরও উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেও জনশ্রুতি আছে। 

অনেকেই আবার নামের মিলের কারণে তাঁকে দেশের সংগীতাঙ্গনের দিকপাল ফোক শিল্পী প্রয়াত আব্দুল করীম শাহ ভেবে নিজে যেমন বিভ্রান্ত হন আবার অন্যদেরও বিভ্রান্ত করেন।

শাহ আব্দুল করীম জন্মসুত্রে ছিলেন দেশের হাওড়-বাওড়ের অঞ্চল সুনামগঞ্জের। আর বাউল আব্দুল করীম শাহ জন্মসুত্রে কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের অঞ্জনগাছী গ্রামের মৃত ঝুমুর আলীর ছেলে।

কুষ্টিয়া মিরপুরের এই কৃতি বাউল শিল্পী আব্দুল করীম শাহ ২০১৪ সালের ১০ জুন পাড়ি জমান না ফেরার দেশে ।

ইত্তেফাক/নূহু