স্পোর্টস রিপোর্টার
শেষ আট থেকেই বিদায় নিলেন আগের তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আবারো খালি হাতেই ইউরোপ সেরার লড়াই থেকে ফিরতে হল জুভেন্তাসকে। সেটাও আবার আয়াক্স অ্যামস্টারডামের বিপক্ষে হেরে। মঙ্গলবার রাতে নিজেদের মাঠ তুরিনে ঘরের মাঠে ডাচ ক্লাবটির কাছে দ্বিতীয় লেগে ২-১ গোলে পরাজিত হয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিয়েছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।
অ্যামস্টারডামে প্রথম লেগে ১-১ গোলে ড্র হবার পর রোনালদো ২৮ মিনিটের গোলে ষষ্ঠ শিরোপার পথে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল জুভেন্টাস। কিন্তু বিরতির আগে ডনি ফন ডি বিক আয়াক্সের হয়ে সমতা ফেরালে জুভেন্টাসের ওপর চাপ বাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝিতে টিনএজ সেন্টার ব্যাক ডি লাইট আয়াক্সকে এগিয়ে দিলে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ডাচ জায়ান্টরা। শেষ পর্যন্ত এই গোলেই ১৯৯৭ সালের পর প্রথমবারের মত আয়াক্সের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত কোচ এরিক টেন হেগ বলেন, ‘আয়াক্সের জন্য এটা একটি স্মরণীয় রাত। শুধুমাত্র খেলোয়াড় নয় পুরো ডাচ ফুটবলের জন্যই এটা একটি গর্বের বিষয়। আরো একবার আমরা ফেবারিটদের বিদায় করলাম। আগেও আমরা বলেছি এই টুর্নামেন্টে আমরা ফেবারিট নই, যে কারণে আমাদের হারানোর কিছু নেই। কিন্তু আমাদের দর্শন হচ্ছে সামনে এগিয়ে যাওয়া। আবারো আমরা নিজেদের সীমানা অতিক্রম করেছি।’
গত গ্রীষ্মে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে রোনাল্ডোকে জুভেন্টাসে আনাই হয়েছিল শুধুমাত্র ১৯৯৬ সালের পর প্রথমবারের মত ইউরোপিয়ান শিরোপা জয়ের স্বপ্নে। তবে সেই স্বপ্ন এখন ম্লান। কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি তাই বললেন, ‘শেষ চারে যাওয়াটা আয়াক্সের প্রাপ্য ছিল। আমরা আরো ভাল খেলতে পারতাম। কিন্তু আয়াক্স আমাদের সেটা খেলতে দেয়নি। দুই বছর আগে তারা ইউরোপা লিগের ফাইনালে খেলেছিল এবং রিয়ালের বিপক্ষে এবার পাঁচ গোল করেছে। এটা আমাদের সবচেয়ে বাজেভাবে বিদায় নয়। যদিও আমাদের ওপর প্রত্যাশার ব্যাপক চাপ ছিল। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ একটি আর্শ্চয্যজনক টুর্নামেন্ট। প্রতিটি দলকেই এখানে সর্বোচ্চ সেরাটা দিয়েই খেলতে হবে, তার ব্যতিক্রম হলেই বিদায় নিতে বাধ্য। গত মাসে বেশ কয়েকটি ইনজুরি আমাদের দু:শ্চিন্তায় ফেলেছিল। এমনকি আজ রাতেও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে আমরা পাইনি।’
সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে আয়াক্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয় করেছিল। ২২ বছর আগে এই জুভেন্টাসকে হারিয়ে শেষ বারের মতো সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল আয়াক্স। এর আগে তরুণ এই ডাচ দলটি চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যাত্রাটা বেশ ঈর্ষণীয়। টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথ নিশ্চিত করে। শেষ ষোল’র প্রথম লেগের লড়াইয়ে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে পরাজিত হয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে স্মরণীয় জয় তুলে নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জয় আসলো জুভেন্তাসের বিপক্ষে।
