স্পোর্টস রিপোর্টার
আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের জন্য সুখবর আসতে যাচ্ছে। আগামী এশিয়ান কাপ এবং কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইয়ে বাংলাদেশের জন্য ভালো খবর হচ্ছে বাংলাদেশ প্রথম রাউন্ডে লাওসকে পেয়েছে। প্রথম রাউন্ডে যদি লাওসকে হারাতে পারে তাহলে বাংলাদেশের ফুটবল দল আগামী এক দেড় বছরে আরো ৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। ম্যাচ পাবে ৪টি। হোম এন্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে খেলা হলে মোট ম্যাচের সংখ্যা হবে ৮। আর তাতে ফুটবলে আরো ব্যস্ত সময় কাটবে।
লাওসের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের ফুটবলারদের। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায় বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো লাওসকে পেয়েছে। কারণ কাল মালেয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এএফসি সদর দপ্তরে প্রথম পর্বের ১২ দল নিয়ে ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ড্রয়ে শক্তিশালী মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, মঙ্গোলিয়া, ম্যাকাও, তিমুর লেসিস, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ব্রুনাই দারুস সালাম, ভুটানও ছিল। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে ড্র হয়। বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো লাওসকে পেয়েছে। ড্রয়ে যদি অন্যকোনো শক্তিশালী দেশ পড়ত তাহলে বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে যেত।
গত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে সিলেটের মাঠে লাওসকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কয়েকবার বাংলাদেশ ও লাওস আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি হয়েছে। যদিও লাওস ফিফার র্যাংকিংয়ে (১৮৪) বাংলাদেশের (১৮৮) চার ধাপ উপরে। তারপরও সেটি কোনো সমস্যা মনে করছে না জাতীয় দলের স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন, সুফিল, বিপলুরা। তাদের ভেতরে একটা জেদ করছে এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ।
জাতীয় ফুটবল দল এখন আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে কম্বোডিয়াকে হারিয়েছে ফিফা প্রীতি ম্যাচে। কাতারে অনুশীলন করতে গিয়ে সেখানে একটি খেলায় জিতেছে অন্যটিতে পিছিয়ে থেকেও ড্র করেছে। বাহরাইন গিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলে প্রথম দুই ম্যাচে হারলেও দারুণ খেলেছে। আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে। শেষ খেলায় জয় নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। ফিফার র্যাংকিংয়েও উন্নতি হচ্ছে। এইসব ধারা যদি ধরে রাখতে পারে তাহলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সামনের দিনগুলো খুব বেশি সম্ভাবনার।
সবার চোখ এখন লাওসের দিকে। লাওসকে হারাতে পারলে আরো অধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ পাবে বাংলাদেশ। আগামী ৬ জুন লাওসের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম খেলা এবং ফিরতি খেলাটি হবে ১১ জুন। এশিয়ার র্যাংকিংয়ে ৩৫ হতে ৪৬ নম্বরে যেসব দেশ রয়েছে সেই ১২টা দল এখন প্রথম রাউন্ডে খেলবে। এই ১২টি দল হোম এন্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে খেলবে এবং বিজয়ী ৬ দল দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে।
এশিয়ার ১ থেকে ৩৪ র্যাংকিংয়ে থাকা দলগুলোর সঙ্গে প্রথম রাউন্ডের ১২ দলের মধ্যে বিজয়ী ৬ দলসহ মোট ৪০ দল নিয়ে ৮ গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে দ্বিতীয় রাউন্ড। দ্বিতীয় রাউন্ড হতে ৮ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং গ্রুপ সেরা ৪ রানার্সআপ দল নিয়ে তৃতীয় রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। ১২ দল দুই গ্রুপে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত বাছাইয়ে খেলবে। তৃতীয় রাউন্ডে এশিয়ান কাপ ফুটবলের চূড়ান্ত বাছাই শুরু হয়ে যাবে। ৬ জুন যে বাছাইটি শুরু হবে সেটি একই সঙ্গে এশিয়ান কাপ এবং কাতার বিশ্বকাপের বাছাই। বাংলাদেশ যদি লাওসের বিপক্ষে হেরে যায় তাহলে পরবর্তী আট ম্যাচ হবে বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি।
