রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা বেসরকারি কোনো গোষ্ঠী দ্বারা শিক্ষার্থীরা যেন আক্রান্ত না হন, সে জন্য বিশেষ সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল সচেতন শিক্ষকবৃন্দ। এছাড়া মানববন্ধন থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানানো হয়।
রবিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা মর্যাদা রক্ষা কর’ প্রতিপাদ্যে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সচেতন শিক্ষকবৃন্দ ব্যানারে এই মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তী সৃষ্ট সমস্যায় কয়েকটি দাবি তুলে ধরে হয়। এগুলো হলো, বিধিসম্মত সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া, আন্দোলন চলাকালে ঘটে যাওয়া অনাকাংক্ষিত ঘটনাগুলোর সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের অধিকারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মর্যাদা সমুন্নত রাখা।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, রাত একটা-দুইটার সময়ে মেয়েদের হল থেকে বের করে দেয়া বাংলাদেশের কোনো মূল্যবোধ সম্মতি (পারমিট) দেয় না। সুফিয়া কামাল হলে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সঠিকভাবে তদন্ত করা যেত। ওই রাতটা অপেক্ষা করে সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে ভুয়া স্ট্যাটাস যারা ছড়িয়েছে, তাদের বের করা যেত। কিন্তু সেটা না করে মেয়েদের বের করে দেয়া হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাভাবিক মূল্যবোধ লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব পুনরুদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ডাকসু নির্বাচন দেয়া এবং হলগুলোতে দলনিরপেক্ষ দায়িত্বশীল প্রশাসক নিয়োগ করার পরামর্শ দেন।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, কয়েক দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক স্যার পি জে হার্টজ, অধ্যাপক আহমেদ ফয়জুর রহমান, অধ্যাপক রমেশ চন্দ্র মজুমদারের কথা মনে পড়ছে । এই অধ্যাপকরা কোনো শিক্ষার্থীর সামান্য ইনফ্লুয়েঞ্জা হলেও ছাত্রদের কাছে ছুটে যেতেন। এমনও হয়েছে তারা রাত ২/৩টা পর্যন্ত ছাত্রদের সঙ্গে থাকতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যিনি উপাচার্য, তিনি শিক্ষার্থীদের যেমন শিক্ষক, তেমন অভিভাবকও। তিনি বলেছেন, অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এটা আমার কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক মনে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী নির্যাতিত হলো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। তিনি শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক নারী নির্যাতন যেন দ্বিতীয়বার আর না হয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ন্যায্যতার প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড় দেয়নি, দেবে না। সচেতন শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের পাশে আছেন জানিয়ে তাদেরকে বুক ফুলিয়ে চলার জন্য বলেন।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাসরীন ওয়াদুদ, আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বেপারী, অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক সংগীতা আহমেদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হকসহ প্রমুখ।
ইত্তেফাক/নূহু
