‘সিগারেটের আগে বিড়ি বন্ধ হলে কঠোর আন্দোলন’

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:২৯
দেশে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে বিড়ি শিল্প এবং ২০৩৮ সালের মধ্যে সিগারেট শিল্পকে বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে একে বৈষম্য বলে উল্লেখ করেছেন তামাক চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাই বিড়ি-সিগারেট বন্ধে একই সময় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
 
অন্যথায় এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সারাদেশে একযোগে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তারা। সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে রংপুরের তামাক চাষি ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবসায়ীদের আয়োজিত মহাসম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
IMG0
বৃহত্তর রংপুরের তামাকচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলেন, ‘ভারতের মতো বাংলাদেশেও বিড়িকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এছাড়াও প্রতি হাজার বিড়িতে শুল্ক ১৪ টাকা নির্ধারণ করাসহ বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি ছাড়া তামাক চাষ কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। ’
 
বক্তারা আরও বলেন, রংপুরের বেশিরভাগ চাষি তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত। আর এই তামাক বিড়ি শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানকার মাটিতে বালির পরিমাণ বেশি হওয়ায় তামাক ছাড়া অন্য কোনো ফসলের ভালো ফলন হয় না। তাই এসব চাষিদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এই শিল্প বন্ধ করে দিলে আবার সেই মঙ্গা পরিস্থিতি ফিরে আসবে।
 
নীলফামারী সদর উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল হকের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম।
IMG1
মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য রাশেদুল ইসলাম। আরো উপস্থিত ছিলেন রংপুর তামাক চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম তুহিন, সাধারণ সম্পাদক মাসুম ফকির প্রমুখ। এ সময় বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক এম কে বাঙ্গালি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
 
এ সময় বক্তারা বিড়ি-সিগারেটের বৈষম্যমূলক শুল্কনীতি ও ভারত-বাংলাদেশের বিড়ি শুল্কের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বাংলাদেশে সিগারেট যতদিন থাকবে, বিড়ি শিল্পও ততদিন থাকবে। ভারতের মতো বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। ভারতের মতো প্রতি হাজার বিড়িতে শুল্ক ১৪ টাকা করতে হবে। যে সব বিড়ি ফ্যাক্টরি ২০ লাখ শলাকার কম উৎপাদন করে তাদের কাছ থেকে শুল্ক নেয়া বন্ধ রাখতে হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি