জনবল সংকট নাকি নিপাট উদাসীনতা?

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২০

শিক্ষিত বেকারের চাপে যেখানে চাকরির বাজারে হাহাকারময় পরিস্থিতি, যেখানে জনবল সংকটে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার সংবাদ কেবল দুঃখজনক নয়—হতাশারই জন্ম দেয়। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে সরকারি চাকরির একটি পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ক্ষেত্রভেদে ১৫০-২০০ জন ছাড়িয়ে যায়। যেমন ৪০তম বিসিএসে ১৯০৩টি পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩২ জন। অর্থাত্ প্রতিটি পদের বিপরীতে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা ২১২ জনেরও বেশি।

গত ১৪ এপ্রিল ইত্তেফাকের এক সংবাদে জানা গেল ‘জনবল সংকটে রাজবাড়ীর দুই রেলরুট বন্ধের উপক্রম’। এ কেমন কথা? যেখানে একটি অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদের জন্য আবেদন করছে এমন স্নাতকোত্তর পাস করা শিক্ষিত প্রার্থীর অভাব নেই, সেখানে এই জনবল সংকটের সংবাদ সত্যিই ভাবনার বিষয়। এ তো গেল কেবল একটি উদাহরণ, এমন অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনবলের অভাবে সেবার প্রার্থীদের ভোগান্তির শিকারের খবর পত্রিকায় আসে।

শূন্যপদ চিহ্নিতকরণ ও যথাসময়ে নিয়োগের ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে এই যে চাকরিপ্রার্থী ও জনবল চাহিদার মধ্যকার দূরত্ব বাড়ছে—এই উদাসীনতার দায় কার?  চাকরি নামক সোনার হরিণকে পাওয়ার চেষ্টায় জুতার তলা ক্ষয় করা বেকার ছেলেটির কাছে এইসব সংবাদ কতটা কষ্টের জন্ম দেয় তা কবে কর্তৃপক্ষ বুঝতে সক্ষম হবেন?

রাকিবুল হাসান রাসেল

জিপি গ, ৭৮/৩, মহাখালী,

বনানী, ঢাকা ১২১২