বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে মাহামুদুল হকের জন্য শিক্ষক হিসেবে একটি স্থায়ী পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু সে নির্দেশ অমান্য করে বিভাগটির জন্য পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ও রেজিস্টার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবিরের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন হাইকোর্টের একজন আইনজীবী।
সোমবার (২৩ এপ্রিল) মাহামুদুল হকের পক্ষে আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম ওই নোটিশে ৬ এপ্রিল পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিলসহ নিয়োগের সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে বলেন। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জবাব দেয়ার অনুরোধ করেন। এ সময়ের মধ্যে জানানো না হলে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নোটিশে উল্লেখ করেন।
নোটিশে বলা হয়, বাছাই বোর্ডের সুপারিশ এবং ২১তম ও ২২তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাহামুদুলকে নিয়োগ দিতে মাহামান্য হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিভ-টু-অ্যাপিল (সিভিল পিটিশন নং ৭৫/২০১৮) করেছে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলাটি সম্পর্কে অবগত। ১২ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট লিভ-টু-অ্যাপিল খারিজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবির উপস্থিতিতে।
নোটিশে বলা হয়, মামলার সকল বিষয় জানা সত্ত্বেও মাহামুদুল হকের জন্য উক্ত পদ সংরক্ষণ না করে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা আদালত অবমাননার সামিল।
নোটিশে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর আগেও দুইবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, রংপুর ২০০৯ এর উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব আইনই ভঙ্গ করেছে কমপক্ষে সাতটি বাছাই বোর্ডের সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করে ওইসব পদে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
নোটিশে আরও বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট মাহামুদুল হককে ওই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে ১২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের করা লিভ-টু-অ্যাপিল (আপিলের অনুমতি) খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। গতবছর ১৫ অক্টোবর হাইকোট এক রায়ে মাহামুদুলকে ১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়।
নিয়োগ না পেয়ে অপেক্ষমাণ তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা মাহামুদুল ২০১৩ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। মাহামুদুলকে নিয়োগ না দিয়ে ওই বিভাগে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দিতে গেলে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ওই নিয়োগ পরীক্ষার ওপর স্থাগিতাদেশ দেয় এবং হাইকোর্ট তার জন্য একটি স্থায়ী পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়। এরপর আবারও ২০১৭ সালে ওই বিভাগের জন্য শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। মাহামুদুল হকের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আবারও তা বন্ধ করে দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশনা সত্ত্বেও বারবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই পদ সংরক্ষণ না করে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করছেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাহমুদুল হকের আইনজীবী হাসনাত কাইয়্যুম বলেন, “হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত হবে ওই বিভাগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা এবং মাহমুদুল হককে নিয়োগ দেয়া। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি তা না করে তবে পরবর্তিতে আমরা আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেব।”
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর বলেন, “আমরা নতুন করে কোন উকিল নোটিশ পাইনি। মামলাটির বিষয়ে আমরা রিভিউয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালের ২৯ অক্টোবর ওই বিভাগে দু’জন প্রভাষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ২০১২ সালে ১৩ জানুয়ারি বাছাই বোর্ড যথাক্রমে মোহা. গোলাম কাদির মন্ডল ও মোহা. নজরুল ইসলামকে মেধা তালিকায় এবং মোহা. মাহামুদুল হক ও নিয়ামুন নাহারকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রেখে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। এরমধ্যে গোলাম কাদির মন্ডল যোগদান করেননি। বাছাইবোর্ডের সুপারিশপত্র যাচাই করে দেখা যায়, বাছাইবোর্ডের সুপারিশপত্র স্বাক্ষরিত হওয়ার কম্পিউটারে প্রিন্টকৃত ১ ও ২ নম্বর সিরিয়ালের পরে ৩ নম্বর সিরিয়াল কলমে লিখে তাসনিম হুমাইদাকে মেধা তালিকায় তৃতীয় এবং অপেক্ষামান তালিকায় তৃতীয় হিসেবে তাবিউর রহমানের নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। নজরুল ইসলামের পর মাহামুদুল হকের নিয়োগ পাওয়ার কথা। বাছাইবোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুজন ও বাছাইবোর্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে থেকে দু‘জন- তাসনিম হুমাইদা ও তাবিউর রহমানসহ মোট চারজনকে নিয়োগ দেয়া হলেও মাহামুদুলকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এজন্য তিনি রিট করেন। দীর্ঘ ছয় বছর মামলা চালানোর পর আপিল বিভাগ থেকেও নিয়োগের পক্ষে রায় পান তিনি।
ইত্তেফাক/নূহু
