প্রক্সি প্রক্রিয়ায় জবিতে ভর্তি, আরেক শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ২০:১২
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে টাকার বিনিময়ে অন্য শিক্ষার্থীর মাধ্যমে প্রক্সি প্রক্রিয়ায় ভর্তি হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় মো. মারুফ হাসান জন নমের এক ছাত্রের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার জবির রেজিস্ট্রার মো. ওহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক ‘অফিস আদেশ’ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য উল্লেখ করেন।
 
ভর্তি বাতিল হওয়া মারুফ হাসান জন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ১৩তম ব্যাচে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন। তার আইডি নম্বর বি-১৭০১০৩০৭৫ এবং ভর্তি পরীক্ষার রোল ৪০৩৫৮৪। বাবা- মো. আনিসুর রহমান, মা- মোছা. বেনু বেগম, গ্রাম: বয়ালিয়া, পো: গোবিন্দগঞ্জ, থানা: গোবিন্দগঞ্জ, জেলা: গাইবান্ধা।
 
জানা যায়, জবির ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সিতে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থী তার ছবিযুক্ত প্রবেশপত্র দিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। ফলাফলের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট বিভাগে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হলে মূল শিক্ষার্থী মারুফ হাসান জন ফটোশপের মাধ্যমে প্রবেশ পত্রে তার ছবি যুক্ত করে ভর্তি হন। 
 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার সময় পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষক দুই কপি প্রবেশপত্রে স্বাক্ষর করে এক কপি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা নেন। জমা নেয়া এক কপি প্রবেশপত্র ভর্তি কার্যক্রমের সময় ডিন অফিস থেকে বিভাগে মূল শিক্ষার্থী ও তার জমা দেয়া প্রবেশপত্রের সাথে মিলিয়ে নেয়ার জন্য দেন।
 
কিন্তু সূত্রে জানা যায়, ভর্তি কার্যক্রমের সময় বিভাগ এ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র মিলিয়ে নেন নি। এ অবস্থায় বিভাগীয় প্রধান ও ডিন যাচাই বাচাই ও স্বাক্ষর করে ভর্তির কাগজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি দফতরে শিক্ষার্থীদের আইডি কাড তৈরির জন্য দেন। আইটি দফতরও শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই না করে আইডি কার্ড বিতরণের জন্য রেজিস্ট্রার দফতরে কাগজপত্র দেন।
 
রেজিস্ট্রার দফতরে শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই বাছাই করার এ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের ছবি ও স্বাক্ষরের সাথে ভর্তি পরীক্ষার সময় জমা দেয়া প্রবেশপ্রত্রের ছবি ও স্বাক্ষরের গড়মিল পাওয়ায় তাদের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি বাতিল করে।
 
জবির সহকারী প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, “জালিয়াতি করে ভর্তি হয়ে কোন শিক্ষার্থী এখানে থাকতে পারবে না। প্রক্সি দিয়ে ভর্তির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করেছে। ও এখন পালাতক। বিভাগে আমরা ওকে কয়েকবার খুঁজেছি। সন্ধান পেলে আইনি ব্যবস্থা নিব।”
 
ইত্তেফাক/আরকেজি