আগামী বাজেটে দেশের সব রপ্তানি খাতকে সমান সুবিধা দিতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রধান রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টসের পাশাপাশি অন্য রপ্তানি খাতকেও এগিয়ে আনার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনের এনবিআর আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সব রপ্তানি খাতকে সমান সুবিধা দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ মহলে সুপারিশ করা হবে।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতকে সহায়তা দেওয়ায় এখন বিশ্বের দ্বিতীয় পোশাক উত্পাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু রপ্তানি ঝুড়িতে নতুন নতুন পণ্য থাকলে সামগ্রিক রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকবে। বর্তমানে হালকা প্রকৌশল খাত ও ইলেকট্রনিক্স খাত ভালো করছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে চাই। পোশাক খাতের মতো অন্য খাতকেও বন্ড সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে।
এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় ইলেক্ট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য আমদানিকারক ও উত্পাদক, মোবাইল ফোন উত্পাদক ও রপ্তানিকারক, বেসিস, কম্পিউটার সমিতির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ইলেক্ট্রনিক্স উত্পাদনকারী ও সংযোগকারীরা বর্তমানে একই সুবিধা পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এতে পরিবর্তন আসবে।
বেসিসের পক্ষ থেকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক এবং পেমেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পুরো পেমেন্ট সিস্টেমকে আরো সহজ ও রেগুলার মনিটরিংয়ের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এতে সরকার বছরে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা আয় করতে পারবে।
সভায় বেসিসের সহ-সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, আইটি-আইটিইএস খাতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত করপোরেট কর মওকুফ রয়েছে। কিন্তু এনবিআরের কাছ থেকে এই করপোরেট কর মওকুফের সনদ পেতে ২-৩ মাস সময় লেগে যায়। এতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। এ প্রস্তাবের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আইটি বা আইটিইএস-এর জন্য ১ বছর মেয়াদকালীন কর্পোরেট কর মওকুফ সনদ ৩ বছর মেয়াদকাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হবে।
সভায় বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে এ খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা দাবি করা হয়। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির প্রেসিডেন্ট মো. সাহিদ-উল-মনির বলেন, ২২ ইঞ্চি পর্যন্ত মনিটর আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গ্রাফিক্স এর কাজে ২৮ থেকে ৩০ ইঞ্চি মনিটর ব্যবহার হয়। সে জন্য ২২ ইঞ্চির পরিবর্তে ২৮-৩০ ইঞ্চি আমদানি করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এছাড়া কম্পিউটার হার্ডওয়্যার আমদানিতে শর্ত শিথিল করার প্রস্তাব করেন তিনি। এক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণায় মনিটরের বদলে টিভি আমদানি করা হয় বলে অভিযোগ তোলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
