ইন্দোনেশিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের জন্য একদিনে বিশ্বের বৃহত্তম নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ হাজারেরও অধিক দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটি পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত পাঁচ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত, দেশটিতে মোট তিনটি টাইম জোন রয়েছে। সূত্র বিবিসি ও রয়টার্স
বুধবার পূর্ব ইন্দোনেশিয়া টাইম জোনের অন্তর্ভুক্ত সর্বপূর্বের পাপুয়া প্রদেশে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এই অঞ্চলটি পশ্চিম ইন্দোনেশিয়া টাইম জোনের অন্তর্ভুক্ত রাজধানী জাকার্তা থেকে দুই ঘন্টা এগিয়ে আছে। দেশজুড়ে ভোট শুরু হওয়ার আট ঘন্টা পর ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কথা। ভোট শেষ হওয়ার পরপরই ‘দ্রুত গণনার’ পর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই প্রাথমিক ফলাফল দেওয়া হবে। দেশটির নির্বাচন কমিশন মে মাসে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে। দেশটিতে এবারই প্রথম প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট ও স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনের ভোট একইদিনে গ্রহণ করা হচ্ছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দ্বীপ দেশটির লোকসংখ্যা ২৬ কোটিরও বেশি। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার এই দেশটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ কোটি ২০ লাখ।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোকো উয়িদোদোর (৫৭) প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন সাবেক জেনারেল প্রাবোও সুবিয়ান্তো (৬৭)। ২০১৪-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও এই দুই প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। ওই নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন জোকো। এই নির্বাচনে জোকোকেই এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আরও পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য জয় প্রত্যাশী জোকো। তিনি ইন্দোনেশিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি অব স্ট্রাগলের (পিডিআই-পি) প্রার্থী। অপরদিকে গ্রেট ইন্দোনেশিয়া মুভমেন্ট পার্টির (জেরিন্ড্রা) প্রার্থী প্রাবোও-ও নির্বাচনে জেতার আশা করছেন। জাতীয় ও স্থানীয় পরিষদের প্রায় ২০ হাজার আসনের জন্য দুই লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের জন্য সারা দেশে আট লাখ ১০ হাজার ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
দেশটির বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় প্লেনে, স্পিডবোটে, ডিঙ্গায় ও ঘোড়ার পিঠে করে ব্যালট পেপার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জার্কাতার উত্তরে হাজারো দ্বীপের একটি এলাকায় ভোট গ্রহণের জন্য দুটি স্পিডবোটকে মোবাইল পোলিং স্টেশনে পরিণত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পূর্ব জাভায় টর্নেডোয় দুটি গ্রামের ভোট কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ নিরাপদ স্থানে ভোট কেন্দ্র সরিয়ে নিয়েছে বলে জানায় ইন্দোনেশীয় বার্তা সংস্থা অন্তারা। ভোট গ্রহণ নিরাপদ করতে দেশজুড়ে ১৬ লাখ আধাসামরিক কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার পুলিশ ও সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।
