বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙার মামলার আসামিদের পক্ষে আওয়ামী লীগের আইনজীবী

আপডেট : ০৪ মে ২০১৮, ১৫:৩৬
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙার মামলার আসামিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়ে জামিন করিয়েছেন রাজশাহীর আওয়ামী পন্থী একজন আইনজীবী। বৃহস্পতিবার এ মামলার পলাতক পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করে তিনি তাদের জামিনের আবেদন জানান। আদালত সকলের জামিন মঞ্জুর করেন।
 
আসামিরা হলেন- জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার হুজরাপুর গ্রামের বাসিন্দা আরমান আলী (৫৩), তার ছেলে মো. আশিক (২০), একই গ্রামের মো. আলাউদ্দিন (৬১), তার ভাই আবদুস সালাম আলী (৫১) এবং আসগর আলী (৩৩)।
 
জানা গেছে, আইনজীবী একরামুল হক রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। বার সমিতির আগের নির্বাচনেও তিনি একই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগেরবারও তিনি আওয়ামী পন্থী প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
 
বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের মামলার আসামিদের পক্ষে তার অবস্থান নেয়ায় রাজশাহী বারের আইনজীবীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
 
গত ১ এপ্রিল মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিলেন। ইতিমধ্যে পুলিশ শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।
 
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, গোদাগাড়ীর হুজরাপুর গ্রামে হাজী হাজারী ওয়াকফ দাখিল মাদ্রাসার সামনের কিছু জমি ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করতেন আরমান আলী। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার অসুবিধার কথা ভেবে কয়েক মাস আগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আরমানের ওই জমির ইজারা বাতিল করে তাকে অন্য কোনো স্থানে জমি দিতে চান।
 
কিন্তু এতে রাজি হননি তিনি। এ নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর জের ধরে গত ৩১ মার্চ আরমান আলী ও তার সহযোগীরা ওই মাদ্রাসায় হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা মাদ্রাসার নাম লেখা সাইনবোর্ড, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করেন। এছাড়া মাদ্রাসার কার্যালয়ের কিছু আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসা তত্ত্বাবধায়ক নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে গোদাগাড়ী একটি থানায় মামলা করেন।
 
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার ধার্য তারিখ বৃহস্পতিবার পলাতক আসামিদের সিনিয়র জুডিশিয়াল জজ আদালত-১ এ হাজির করা হয়। আইনজীবী একরামুল হক তাদের জামিনের আবেদন করেন। বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আঞ্জু মনোয়ারা জামিনের বিরোধীতা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আসামিদের জামিনের বিরোধীতা করেছি। কিন্তু তাদের জামিন হয়ে যাওয়ায় খারাপ লাগছে।’
 
আইনজীবী একরামুল হক বলেন, ‘জুনিয়র আইনজীবীরা মামলাটি ফাইলিং করেছিলেন। পরে তাদের অনুরোধে আদালতে দাঁড়াতে হয়েছে।’
 
ইত্তেফাক/আরকেজি