স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
অপহরণ ও ছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত রাজশাহীর পবা উপজেলার মহানগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপনকে (৪১) ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরাতে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদে থাকা পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ। এদিকে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানে ফেরায় ছাত্রী ও অভিভাবকরা আতঙ্কিত বলে জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর পর গত ১৫ এপ্রিল ব্যাপক শোডাউন করে প্রতিষ্ঠানে ফেরেন অধ্যক্ষ। এদিকে গতকাল বুধবার অপহরণ ও ছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় আদালতে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিচার কাজ শুরু হয়েছে। ঐদিন দুপুরের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহা. মনসুর আলমের আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার এক নম্বর সাক্ষি প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোকসেদ আলী। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোজাফ্ফর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ৪ জুলাই একমাত্র আসামি অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
এদিকে অধ্যক্ষ রিপনকে পুনর্বহালে গত ২১ মার্চ নিজ দপ্তরে সভা করেন ইউএনও জাহিদ নেওয়াজ। সভায় অধ্যক্ষকে পুনর্বহালে মত দেন কমিটির সদস্যরা। পরে গত ১৪ এপ্রিল সভার রেজুলেশন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের হাতে ধরিয়ে দেন ইউএনও। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শৃঙ্খলা, শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ রক্ষায়’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে কলেজে ফিরেই মামলার সাক্ষি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোকসেদ আলীকে একহাত নিয়েছেন অধ্যক্ষ রিপন। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকা অফিস সহকারী মোখলেসুর রহমান, ছুটিতে থাকা শিক্ষক মাসুদ রানা ও রায়হানুল ইসলামকে অনুপস্থিত দেখিয়েছেন। প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের। এখন তারাও আতঙ্কিত বলে জানিয়েছেন।
নিপীড়নের শিকার ছাত্রীর বাবা জানান, অধ্যক্ষ মামলা তুলে নিতে তাদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর পুলিশকে ম্যানেজ করে ভাইসহ তাকে নাশকতার দুটি মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ।
অপহরণ ও ধষর্ণ চেষ্টার অভিযোগে গত বছরের ৮ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই ছাত্রী। ওই দিনই অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর চার দিনের মধ্যে ১৩ মার্চ অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিচালনা কমিটি । এর আগে ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নিজ অফিস কক্ষে অধ্যক্ষ রিপন এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠে। ঘটনার চারদিনের মধ্যে ভুক্তভোগী ছাত্রীসহ আরো দুই ছাত্রী এবং আরেক শিক্ষিকা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ দেন। এছাড়া আর্থিক অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানান অনিয়মের অভিযোগে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরাও। কিন্তু তদন্তে উত্থাপিত সকল অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়েছে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউএনওর দপ্তর। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ প্রতিষ্ঠানের তত্কালীন আরেক শিক্ষিকা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণের চেষ্টার মামলা করেন।
অধ্যক্ষকে পুনর্বহালের বিষয়ে ইউএনও জাহিদ নেওয়াজ বলেন, যে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল, নির্বাহী তদন্তে সেই অভিযোগ ভুয়া ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
