মোদি হাওয়ায় ২০১৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে স্বপ্নের উড়ান দিয়েছিলেন ‘ড্রিমগার্ল’? হেমা মালিনী। রূপালি পর্দার নায়িকা ‘হার্টথ্রব’ হেমা বিরোধী ইউপি জোটের শরিক রাষ্ট্রীয় লোক দলের প্রার্থী তথা তত্কালীন এমপি জয়ন্ত চৌধুরিকে উত্তর প্রদেশের মথুরায় চতুর্মুখী লড়াইয়ে হারিয়ে দিয়েছিলেন তিন লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে। তিন বছর পর ২০১৭ সালে বিধানসভা নির্বাচন। উত্তর প্রদেশে এক রকম ঝড় তুলে তিন চতুর্থাংশেরও বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। সর্বত্রই লড়াই হয়েছিল পঞ্চমুখী। বিধানসভা ভোটের নিরিখে বিজেপি মথুরায় এগিয়ে ছিল প্রায় আড়াই লাখ ভোটে।
২০১৯ এ হাওয়া বদল হয়েছে। বৃহত্ দুই বড় দল সমাজবাদি পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি একজোট হয়েছে। রাষ্ট্রীয় লোক দলও তাদের সঙ্গী হয়েছে। এই তিন দল একজোট হওয়ার পর গত বছর গোরখপুর এবং ফুলপুর লোকসভা কেন্দ্রে উপ-নির্বাচনে ধরাশায়ী হয় বিজেপি। সেই ফল দেখেই একজোট হয়ে লোকসভা নির্বাচনের মঞ্চে অবতীর্ণ এই তিন দল। এবার বিজেপির হেমার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাষ্ট্রীয় লোক দলের কুমার নরেন্দ্র সিং। জাতীয় কংগ্রেসও এ আসনে প্রার্থী দেওয়ায় লড়াই এখানে ত্রিমুখী।
গত বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে দেখা যাচ্ছে, বিরোধী ভোট একজোট হওয়ায় বিজেপি মথুরায় প্রায় ৭৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে রয়েছে। প্রত্যয়ী হেমা মালিনী প্রচারে বলছেন, যে যাই বলুক মথুরা বিজেপিরই। এবার জয়ের ব্যবধান আরো বাড়বে। পাল্টা প্রচারে বিরোধীরা বলছেন, বিরোধী ভোট ইভিএমে একত্রিত হলে হেমার হার অনিবার্য। অঙ্ক বলছে বিজেপি পিছিয়ে, যুক্তি বলছে বিদায়ী এমপি কিছুটা হলেও অ্যাডভান্টেজ পাচ্ছেন তাঁর ‘ড্রিমগার্ল’? গ্লামারের মহিমায়। শেষ হাসি কে হাসবেন?? তা জানা যাবে ফল প্রকাশ হলেই।
