জাতীয় দলের নতুন কোচ অনুসন্ধানে অন্তরায় ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ

আপডেট : ০৮ মে ২০১৮, ০৪:৩৩
দেখতে দেখতে ছয় মাস কেটে গেলো। গত নভেম্বর থেকে কোনো প্রধান কোচ নেই বাংলাদেশ জাতীয় দলে। চান্দিকা হাথুরুসিংহে হঠাত্ চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশ একটা করে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে প্রধান কোচ ছাড়াই। এরপর শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফিতে ভারপ্রাপ্ত কোচ ছিলেন কোর্টনি ওয়ালশ। এভাবে কাজ চালানোর পাশাপাশি ভেতরে ভেতরে চলছে স্থায়ী কোচের সন্ধানও। অনেক অনেক বড় নাম আসছে আলোচনায়। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত কোচ নিয়োগের কাছে যেতে পারছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
 
বড় বড় কোচদের চেষ্টা করেও স্থায়ীভাবে জাতীয় দলে না পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে আইপিএল, বিগ ব্যাশ, বিপিএল, সিপিএলসহ বিভিন্ন দেশের ফ্রাঞ্চাইজি লিগগুলো। গতকাল ইত্তেফাকের সাথে একান্ত আলাপে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন স্বীকার করলেন, এই ফ্রাঞ্চাইজি লিগগুলোর কারণেই কোচ পেতে বিলম্ব হচ্ছে তাদের।
 
সুজন বলছিলেন, ‘আসলে আমরা তো শুরু থেকে কিছু বড় নাম নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। অনেকের সাথে অনেকদূর কথাবার্তাও এগিয়েছে বিভিন্ন সময়। কিন্তু পরে দেখা গেছে বিভিন্ন দেশের যে ডমেস্টিক ফ্রাঞ্চাইজি লিগগুলোর সাথে সংযুক্ত থাকার কারণে তারা কোনো লং টার্ম চুক্তিতে আসতে রাজী নন। এটা আমাদের কোচ নিয়োগের বড় একটা অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
 
ফ্রাঞ্চাইজি লিগগুলো ছেড়ে কেন কোচরা আসতে চান না, তাও সুজনের কথায় পরিষ্কার বোঝা গেলো, ‘আমরা কিছু সদ্য সাবেক হয়ে যাওয়া বড় তারকার সাথেও আলাপ করেছি। কিন্তু তাদেরও ব্যাপারটা ওই। তারা সবাই এখন ভাবেন যে, খেলোয়াড়ী জীবনে পরিবারকে তেমন সময় দিতে পারেননি। এখন ফ্রাঞ্চাইজি লিগে কাজ করলে দুই তিন মাসের কমিটমেন্টে সারা বছরের মতো ইনকাম করতে পারছেন। ফলে এই লিগগুলোর কারণে সম্ভাবনাময় ভালো কোচ পাওয়াটা কঠিন হয়েছে।’
 
ফ্রাঞ্চাইজ লিগে জড়িত নন, এমন কোচদেরও চেষ্টা করেছে বিসিবি। কিন্তু সেখানে আবার অন্য সমস্যা। পরিবার রেখে লম্বা সময় বাংলাদেশে এসে থাকতে রাজী নন অনেক অভিজ্ঞ কোচ, ‘পরে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা অভিজ্ঞ কোচ আছেন, যারা কোথাও এখন জড়িত নন, তাদের মধ্যে খোঁজ করেছি। যারা কোনো ফ্রাঞ্চাইজি লিগে সম্পৃক্ত নন, তাদের কথা ভাবছিলাম আমরা। যেমন কোনো বোর্ডের সাথে আছেন বা ডিরেক্টর অব কোচিং হিসেবে কাজ করছেন বা সহকারী কোচ। এরকম দুই একজনের সাথে আমরা অলমোস্ট কনফার্মও করে ফেলেছিলাম। কিন্তু শেষ সময়ে দেখা গেছে আমাদের এখানে যেহেতু ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা থাকতে হবে, তাই তাদের ফ্যামিলি এটা এলাউ করছে না।’
 
সুজন কিছু নামও বলে দিলেন, যাদের সাথে তাদের আলাপ একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিলো, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেটা বললাম, অনেকের সাথে কথা অনেকদূর এগিয়েছে, তারপর তারা পারিবারিক কারণে পিছিয়ে গেছেন। যেমন ধরুন পল ফ্যাব্রেস, এন্ডি ফ্লাওয়ার বা জিওফ মার্শের কথা বলতে পারেন। মার্শের সাথে আমাদের আলাপ আলোচনা খুব ভালো হচ্ছিলো। কিন্তু ওই একই কারণে সে থাকতে পারলো না।’
 
এর বাইরেও বিসিবি গ্রাহাম ফোর্ড, স্টিফেন ফ্লেমিং, মাহেলা জয়াবর্ধনে, গ্যারি কার্স্টেনের সাথে আলাপ করেছিলো বলে বিভিন্ন সময় গুঞ্জন উঠেছে। এরা সবাই ফ্রাঞ্চাইজি লিগ বা পারিবারিক কারণে রাজী হতে পারেননি। 
 
তবে এসব প্রতিকূলতায় নমনীয় হচ্ছে না বিসিবি। তারা তাদের মূল লক্ষ্যে ঠিক থাকতে চায়। তারা একজন স্থায়ী কোচকেও চায়, যিনি কি না, নিজের দলের মতো করে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে ভাবতে পারবেন, ‘দেখেন, বোর্ড চায় এমন একজন কোচকে, যে কিনা সত্যিই এই টিমটাকে ওন করবে; এটাকে নিজের দল মনে করবে। ওনারশিপ না থাকলে টিমের দীর্ঘমেয়াদে ভালো রেজাল্ট হবে না। একটা ট্যুর এসে কাজ করে দিয়ে গেলো, ওতে দলের বা ইনডিভিজুয়াল খেলোয়াড়দের উপকার হবে না। ধরুন, আমাদের সাকিব-মাশরাফি-তামিমের বিকল্প খেলোয়াড় কে? এখন যদি আমাদের একজন ওরকম কোচ থাকে, তাহলে সে এটা নিয়ে ভাবতে পারবে। আমরা চাই এরকম একজন কোচ, যিনি লম্বা সময়ের জন্য দল নিয়ে ভাবতে পারবেন।’
 
মাঝে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে কোচ পাওয়া যাবে। সুজনও শেষ পর্যন্ত এই আশাবাদটা ঠিক রাখতে চান। সবকিছুর পরও তিনি বললেন, ‘আমরা ওই সময়টা মাথায় রেখেই কাজ করছি। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত আলোচনাটা কোথায় গিয়ে ঠেকে। আমরা এখনও আশাবাদী।’
 
ইত্তেফাক/রেজা