গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের প্রতিবাদে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল নেশনস লিগে আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ ঘিরে। স্কোয়াডের এক ফুটবলারের অনড় অবস্থান এবং অন্য সদস্যরা ম্যাচ বয়কট নিয়ে ভাবছিল। তবে ভোটাভুটি শেষে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়ারল্যান্ড।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচটি সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়াবে। তবে মাঠে নামলেও ‘সংঘাতময় পরিস্থিতিতে প্রাণ হারানো সব মানুষের’ প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কালো আর্মব্যান্ড পরে খেলবেন আইরিশ ফুটবলাররা।
ঘটনার সূত্রপাত আইরিশ গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনুর অবস্থান ঘিরে। ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনকে ‘নৃশংসতা’ আখ্যা দিয়ে ম্যাচটিতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, ‘নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তবে আমি এমন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যা হালকাভাবে নেওয়া হয়নি। নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা ভুল—আমার এই নীতিগত অবস্থানের কারণেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে খেলা আমার পক্ষে অসম্ভব।’
বাজুনুর ঘোষণার পর দলের অনুশীলন ও নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। হোটেল রুমে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) কর্মকর্তা, কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে টানা চার ঘণ্টা বৈঠক চলে। বেশ কয়েকজন ফুটবলারও বাজুনুর সঙ্গে ম্যাচ বয়কটের চিন্তা করছিলেন। পরবর্তী সময়ে ভোটাভুটি আয়োজন করা হলে ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ’ খেলোয়াড় মাঠে নামার পক্ষে মত দেন।
এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কারেল জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের ভোটের ওপর ভিত্তি করেই তারা ম্যাচটি খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অধিনায়ক ডারা ও’শি জানান, প্রতিটি ফুটবলারের ব্যক্তিগত মতামতকে মর্যাদা দেওয়া এবং মানবিক ইস্যুতে খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি ছিল।
আয়ারল্যান্ড-ইসরায়েল ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয় আরও আগেই। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হলগ্রিমসন বলেন, ‘আমরা গণহত্যার পক্ষে খেলছি না, আমরা গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছি।’ হালগ্রিমসনের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) উয়েফার কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের হুমকি দেয়।
