ঘুষের মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মহত্যা করেছেন পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যালান গার্সিয়া। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারা গার্সিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। গার্সিয়ার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের নির্মাণ কোম্পানি অদেব্রেচটের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ আছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস মোরান জানান, বুধবার সকালে গার্সিয়াকে (৬৯) গ্রেপ্তার করতে তার রাজধানী লিমার বাড়িতে যায় পুলিশ। এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট একটা ফোন করার কথা বলেন। তিনি তার কক্ষে গিয়ে দরজা আটকে দেন। কিছুক্ষণ পরই গুলির শব্দ পাওয়া যায়। দরজা ভেঙে তাকে দ্রুত লিমার ক্যাসিমিরো হাসপাতালে নেয়া হয় এবং অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মাথায় গুলির চিন্ন পাওয়া গেছে। গার্সিয়ার মৃত্যুতে দেশটির সরকার পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। শোক প্রকাশ করে গার্সিয়ার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারা। অদেব্রেচট স্বীকার করেছে, ২০০৪ সাল থেকে পেরুতে তারা প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার ঘুষ দিয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গার্সিয়ার দাবি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার এক টুইটার বার্তায় তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, দ্বিতীয় মেয়াদে লিমাতে মেট্রো রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য গার্সিয়া অদেব্রেচটের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন।
ঘুষের মামলা তদন্তের স্বার্থে গত নভেম্বরে গার্সিয়ার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পেরুর আদালত। পরে তিনি লিমায় উরুগুয়ের দূতাবাসে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চান। তবে তার সেই আবেদন প্রত্যাখান করা হয়। গার্সিয়া প্রথম ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৬ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুর খবরে হাসপাতালের বাইরে সমর্থকরা বিক্ষোভ করেন। গার্সিয়া ছয় সন্তানের জনক।
