এক বিকেলে তরুণদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:০৪

>> রিয়াদ খন্দকার

 

বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘প্রথমবারের মতো’ দেশের প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মুখোমুখি হয়ে তাদের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন। সেই সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দিতে প্রধানমন্ত্রী তার কৈশোর ও তারুণ্যের সময়ে ঘটে যাওয়া অজানা অনেক তথ্য তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীদের সামনে। তরুণদের কাছ থেকে তাদের স্বপ্নের কথা, স্বপ্নপূরণের কথা ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কথা শুনলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে দেশের উন্নয়নে নিজের ভবিষ্যত্ ভাবনার কথাও তরুণদের জানান প্রধানমন্ত্রী। উত্তর দেন তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের।

গত ২৩ নভেম্বর, শুক্রবার বিকেলে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি এই কথোপকথনের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের। এতে উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রী, ক্রীড়া, সাংস্কৃৃতিক কর্মীসহ সারা দেশ থেকে মনোনীত হয়ে আসা ১৫০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক তরুণ-তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চায় তরুণরা অথবা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলে কোন কোন সমস্যার সমাধান করবেন তারা—এমন অনেক বিষয়ে আলোচনা হয় এবারের ‘লেটস টক’-এ।

‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানটি ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশ থেকে আসা ১৫০ জন তরুণের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন পেশাজীবী, চাকরিজীবী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত এবং দেশ গঠনে উদ্যমী তরুণ প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।

একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা শেখ হাসিনার কৈশোর এবং তারুণ্য কি অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিল? কী রকম দুরন্ত সময় পার করেছেন তিনি? এমন অনেক প্রশ্নেরই উত্তর দেন তিনি। এ ছাড়া, কৈশোর ও তারুণ্যে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া, স্কুলের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া, মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ জীবন, ১৯৭৫ সালে দেশের বাইরে নিজের পরিবারের সঙ্গে কঠিন জীবনযাপন, ১৯৮০ সালে লন্ডনে যাওয়া, রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের অনুপ্রেরণা, দেশের মানুষের কাছে ফিরে আসা—এমন আরও অনেক বিষয়ে অজানা তথ্য তরুণদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তরুণেরা যাতে দেশের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন এবং নিজেদের ভাবনা ও সমস্যাগুলোর কথা নীতি নির্ধারকদের কাছে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্যই সিআরআই নিয়মিত আয়োজন করে আসছে ‘লেটস টক’ নামের অনুষ্ঠানটি। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদকে নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার ‘লেটস টক’ আয়োজন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আয়োজন করা হলো ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’।