তিতাসে ২২ দুর্নীতি রোধে ১২ সুপারিশ

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৪৩

ঘুষ লেনদেন করে অনিয়ম ও দর্নীতির মাধ্যমে বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহককে শিল্প শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে সংযোগ প্রদান করার অভিযোগ রয়েছে ‘তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোং লি. এর বিরুদ্ধে। এমনকি  ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ প্রদান, অবৈধ লাইন পুনঃসংযোগ, অবৈধ সংযোগ বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া ও মিটার বাইপাস করে সংযোগ প্রদান করাসহ ২২ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব দুর্নীতির ক্ষেত্র চিহ্নিত করে প্রতিরোধের ব্যাপারে কমিশন ১২ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করেছে কমিশন। গতকাল বুধবার দুদকের কমিশনার ড মো. মোজাম্মেল হক খান জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর কাছে ‘তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোং লি. এর দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিমের প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

এসময় দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, এই প্রতিবেদনে ২২টি সম্ভাব্য দুর্নীতির উত্স চিহ্নিত করে ১২ দফা সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। এ প্রতিবেদন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ সহজ হবে। এভাবে দুর্নীতি সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধ করা গেলে, মামলা-মোকদ্দমা করার প্রয়োজন পড়বে না। এসময় বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দুদকের এ কার্যক্রমকে ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দুদকের এ প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি ঘোষণা করেছেন, এ মন্ত্রণালয়ে তা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হবে। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।

তিতাসের দুর্নীতির উত্স সম্পর্কে দুদক সূত্র জানায়, তিতাস গ্যাস কোম্পানিতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি সংঘটিত হয় গ্যাসের অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। অবৈধভাবে বিভিন্ন কারখানায় লোড নেওয়া হয় এবং বৃদ্ধি করা হয়। বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জে বিপুল পরিমাণ অবৈধ গ্যাস লাইন সংযোগের তথ্য পেয়েছে দুদক। ঘুষের বিনিময়ে স্বাভাবিক সংযোগের পাশাপাশি চোরাই লাইনে সংযোগ  ও গৃহস্থালির চেয়ে শিল্পেই বেশি অবৈধ সংযোগ রয়েছে বলেও একাধিক প্রমাণ পেয়েছে। অবৈধ সংযোগের পাশাপাশি মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমেও দুর্নীতি হয়ে থাকে। কিছু অসাধু কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে মিটার টেম্পারিং করে গ্রাহকের প্রকৃত বিল গোপন করে থাকে। এছাড়া ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে তিতাসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুমোদনের অতিরিক্ত বয়লার ও জেনারেটর সংযোগ দেওয়া হয়েছে।