ঢাবিতে তিনদিনব্যাপী নাট্যোত্সবে তরুণদের উচ্ছ্বাস

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:০৪

>> ছাইফুল ইসলাম মাছুম

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিনদিনব্যাপী নাট্যোত্সব। গত ২০ থেকে ২২ নভেম্বর টিএসসি মিলনায়তনে এ উত্সবের আয়োজন করা হয়েছিল।

গত ২০ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রধান অতিথি হিসেবে নাট্যোত্সবের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মফিজুর রহমান। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের মডারেটর সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সভাপতি রাগীব রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি আশা করি, নাট্যচর্চা থেকে শিক্ষার্থীরা মৌলিক দর্শন গ্রহণ করবে। এ ধরনের নাটক শিক্ষার্থীরা যত বেশি দেখবে, তত বেশি ইতিবাচক প্রভাব তাদের মনস্তাত্ত্বিক জগতে প্রবেশ করবে।’

এই বছর ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যজন সম্মাননা’ পেয়েছেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মাসুম রেজা, ত্রপা মজুমদার ও মু. মাহতাব উদ্দিন আরজু।

উত্সবের প্রথম দিন সন্ধ্যা ৬টায় থিয়েটার আর্ট ইউনিট দলের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘আমিনা সুন্দরী’। নারীর বৈষম্য-বঞ্চনাকে তুলে ধরে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো লোককাহিনি ‘নছর মালুম ও ভেলুয়া সুন্দরী’ অবলম্বনে গড়ে উঠেছে এই নাটকটি। দ্বিতীয় দিন মঞ্চস্থ হয় নাট্যদল বটতলার নাটক ‘ক্রাচের কর্নেল’। কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের উপন্যাস অবলম্বনে নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন সামিনা লুত্ফা নিত্রা ও সৌম্য সরকার। নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ আলী হায়দার। স্বাধীন বাংলায় প্রথম যে মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড়াতে হয়েছিল, তিনি হলেন কর্নেল তাহের। তার মধুময় পারিবারিক জীবন, পাকিস্তান থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, যুদ্ধক্ষেত্রে পা হারানো, যুদ্ধ শেষে পিপলস আর্মি গঠনের ভাবনা। এ ছাড়া তাহেরের সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া, সংগ্রাম ও আন্দোলনের চিন্তা ইত্যাদি ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়েই গড়ে উঠেছে ‘ক্রাচের কর্নেল’ নাটকের কাহিনি। শেষ দিন ২২ নভেম্বর মঞ্চস্থ হয় মাসুম রেজার রচনা ও নির্দেশনায় দেশ নাটকের ‘নিত্যপুরাণ’। মহাভারতের পুরাণ অবলম্বনে পঞ্চপাণ্ডব, একলব্য, দ্রৌপদী ও দ্রোণাচার্যের চরিত্রের মধ্য দিয়ে সমাজের বৈষম্য, শোষণ ও স্বার্থপরতার দিকগুলো তুলে ধরা হয় নাটকটিতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি রাগীব রহমান জানান, প্রতিটি নাটকেই পুরো মিলনায়তন ছিল দর্শকপূর্ণ। আগামীতে এরচেয়েও আরও বড় পরিসরে এই উত্সব আয়োজন করার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

উল্লেখ্য যে, উত্সবে মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক ইত্তেফাক, যমুনা টেলিভিশন, রেডিও আম্বার ও সারাবাংলা ডটনেট।