চবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

আপডেট : ০৯ মে ২০১৮, ১৯:৪৪
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইতিহাস বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের সালেহ আকরাম বাপ্পী নামের এক শিক্ষার্থীকে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় দোকানিরা ছিনতাইকারী সাজিয়ে মারধর করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
 
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাপ্পীকে গুরুতরভাবে মারধর করা হয়েছে এখনও সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে দুইদিন আইসিইউতে রাখতে হয়েছে। বাপ্পীর উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে নাম ঠিকানা প্রকাশ এলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বারবার হামলা হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন কোন কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এ ধরনের ঘটনা দিনের পরদিন বেড়েই চলছে।
 
বক্তারা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী স্থানীয়দের হাতে নির্যাতনের শিকার হলে প্রশাসন একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করে। কিন্তু আমরা আর আর সহ্য করতে চাই না। অনতিবিলম্বে যদি বাপ্পীর ওপর হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হয় তবে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
 
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম, সহযোগী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, ড. শওকত আরা বেগম, সহকারী অধ্যাপক ড. সালমা বিনতে শফিক, প্রভাষক ফারহানা আজিজ, কানিজ সুলতানা প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
 
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতে ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য বাপ্পী তার দুই বন্ধুসহ নগরীর ষোলশহরের ঝালবিতান নামক একটি দোকানে বসে নাস্তা করে বিল দিয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরে দোকান থেকে উঠে আসার সময় ফের বিল চাওয়ায় কথাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে বাপ্পীকে ছিনতাইকারী সাজিয়ে অন্য দোকানদারদের ডেকে এনে পিটুনি দেয়া হয়। এতে বাপ্পীর দুই পা আঘাতে ভেঙে গেছে। মাথাসহ তার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম রয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করেন পথচারীরা। বর্তমানে বাপ্পী বেসরকারি একটি হাসপাতালে সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার তার বাবা বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
 
ইত্তেফাক/এসএস