"পূর্ব বাংলার কৃষকদের জন্য রবীন্দ্রনাথের মনে ছিলো গভীর মমতা ও দায়িত্ববোধ"

আপডেট : ১০ মে ২০১৮, ১৯:৪৩
“পূর্ব বাংলার কৃষকদের বেদনা ও বঞ্চনাগুলো রবীন্দ্রনাথ হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করতেন, আর তাই তাদের দুর্দশা ঘোচানোর জন্য অসংখ্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি মনে করতেন কৃষকদের দেখভাল করা জমিদারের দায়িত্ব, তাই তাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করতে কুণ্ঠিত ছিলেন।” আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ বক্তৃতায় এ কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।
 
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র নাগ এবং উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ। ড. আতিউর তাঁর বক্তৃতায় রবীন্দ্র-ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিলো- স্বাধীনতা ও অধিকার, কৃষির আধুনিকীকরণ ও আর্থিক অন্তর্ভূক্তি, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহ সামাজিক উন্নয়ন, কৃষকদের মধ্যে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা উৎসাহিতকরণ প্রভৃতি।
 
তিনি বলেন রবিঠাকুর কৃষকদের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল করতে চাননি। তাই ‘অর্জিত স্বাধীনতাই প্রকৃত স্বাধীনতা’- এই বিশ্বাস কৃষকদের মধ্যে তৈরি করার চেষ্টা করে গেছেন। রবীন্দ্রনাথ নিজে সমবায় ব্যবস্থার উপর আস্থাশীল ছিলেন, এবং কৃষকদেরকেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে উৎসাহিত করেছেন। খাজনা থেকে যে আয় হতো তার একটি অংশ তিনি ব্যয় করতেন কৃষক সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য। তিনি একটি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাঁর পুত্র ও অন্যান্য গ্রামবাসীদের সেখানে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করতে উৎসাহিত করেছিলেন। কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য
তিনি বিদেশ থেকে উন্নত জাতের বীজ ও গবাদি পশু আমদানী করেছিলেন। কৃষকরা যাতে ঋণগ্রস্ততার চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারে সে লক্ষ্যে ১৮৯৪ সালে শিলাইদহে কৃষি সমবায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর পাশাপাশি কৃষকদেরকে আয় বৃদ্ধির জন্য অ-কৃষি খাতে যুক্ত করার চেষ্টাও তিনি করেছিলেন।
 
পল্লী উন্নয়ন সংক্রান্ত এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে যে অভিজ্ঞতা রবি ঠাকুর অর্জন করেছিলেন পরবর্তীকালে তার অনেক কিছুই প্রয়োগ করেছিলেন পতিসর, শাহজাদপুর এবং  শান্তিনিকেতনে। দুই বাংলাতেই তার পল্লী সংস্কারের এসব উদ্যোগ অনুসৃত হয়েছে বহুকাল ধরে। পল্লী সমাজের উন্নয়ন নিয়ে তাঁর ভাবনা কেবল অর্থনীতির গ-িতেই সীমাবদ্ধ ছিলো না, বরং সমাজ ও সংস্কৃতির সকল দিকই তাঁর বিবেচনায় ছিলো। পূর্ব বাংলার শান্ত-সুন্দর প্রকৃতি তাঁর সৃষ্টিশীল লেখালেখির জন্য জুগিয়েছিলো অতুলনীয় প্রেরণা।
 
বক্তব্যের শেষাংশে ড. আতিউর বলেন যে, কবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমরা যে বিশালতার জায়গায় রেখেছি, তাঁর বহুমুখী উন্নয়ন চিন্তাকে বিবেচনায় আনলে তিনি তার চেয়েও আরও বেশি উচ্চতায় উঠবেন। আর তাই তিনি চিরকালই আমাদের ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থেকে যাবেন।
 
ইত্তেফাক/নূহু