নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত প্রথম ৯টি বাংলা সংবাদপত্রের প্রকাশক, সম্পাদকের মতবিনিময় সভায় সম্পাদকগণ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী কমিউনিটি বিনির্মাণে বাংলা মিডিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেছেন, প্রায় তিন দশক ধরে প্রকাশিত শীর্ষস্থানীয় বাংলা সংবাদপত্রগুলো আজ সঙ্কটের আর অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি। কমিউনিটির বিজ্ঞাপন বাজার ছিন্ন-ভিন্ন করার অপচেষ্টা চলছে। একটির পর একটি ইট গেঁথে বাংলাদেশী কমিউনিটি গড়ে তোলার তিন দশকের অবদানকে মুছে দেয়ার উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় পাঠক আর বিজ্ঞাপনের বাজার যাচাই-বাছাই না করে নতুন নতুন পত্রিকা প্রকাশের কারণে কমিউনিটিতে অশুভ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। মর্যাদা হারাতে চলেছে পেশাদার সাংবাদিকতা। সম্পাদকগণ বাংলা মিডিয়ার অবদানকে মুছে ফেলার অশুভ উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে রুখে দেয়ার জন্য কমিউনিটির প্রতি উদাত্ত্ব আহ্বান জানান।
সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ বেলোজিনো ব্যাঙ্কুয়েট পার্টি হলে সোমবার সন্ধ্যায় মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় নিউইয়র্কের পুরনো ৯টি পত্রিকার প্রকাশক/সম্পাদক যথাক্রমে সাপ্তাহিক ঠিকানা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীন, সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক দেশ বাংলা সম্পাদক ডা. চৌধুরী সারওয়ারুল হাসান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক আজকাল-এর প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ ও সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত শীর্ষ ৯টি পত্রিকার সম্পাদকগণ এই প্রথমবারের মতো একত্রে এক মঞ্চে বসে সংবাদপত্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সুধীমহলের সাথে মতবিনিময় করার পাশাপাশি জবাবদিহিতার মুখোমুখি হন।
৯জন সম্পাদকের পক্ষে কৌশিক আহমেদ ‘নিউইয়র্কে বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশনার তিন দশকের কথা’ শীর্ষক একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে সংবাদপত্রের ইতিহাস, নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটির উত্থান, নিউইয়র্কের বাংলা সংবাদপত্রের ইতিহাস ও কমিউনিটি বিনির্মাণে সংবাদপত্রগুলোর ভূমিকা, সংবাদপত্রের সঙ্কট ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরেন।
সম্পাদকগণ বলেন, ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা সহ পারিবারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল কিছু ত্যাগ স্বীকার করেই আমরা প্রবাসে পেশাদারিত্বের সাথে বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করে কমিউনিটি বিনির্মাণে অব্যাহতভাবে ভূমিকা রেখে চলেছি। এসময় কোন কোন সম্পাদক আবেগ-আপ্লুত হয়ে বলেন, আমাদের সংবাদপত্র আমার সন্তানতুল্য।
সভায় প্রবাসের ৯জন সম্পাদকের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা সবসময় আপনাদের আতিথেয়তা নিয়েছি, আজ আতিথেয়তা দিতে চাই। সম্পাদকগণ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, মিডিয়াই আপনাদের নেতা বানিয়েছে, চেয়ার দিয়েছে। আজ সেই মিডিয়া সঙ্কটের মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে আমরা কমিউনিটির সার্বিক সহযোগিতা চাই।
সম্পাদকগণ বলেন, নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়াগুলো এখন আর কমিউনিটি মিডিয়া নয়, মূলধারার মিডিয়ায় পরিণত হয়েছে। কেননা, মেয়র অফিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন অফিস থেকে আমাদের মিডিয়াগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, বাংলা সংবাদপত্রের খবর সিটি প্রশাসন বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটির শতকরা ৪৪ ভাগ মানুষ কমিউনিটি পত্রিকা নিয়মিত পড়েন। অভিবাসীদের পৃষ্ঠপোষকতায় মিডিয়াগুলো বেঁচে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই। তাই বিচার-বিবেচনা করে, ভালো-মন্দ দেখে কমিউনিটির সহযোগিতা চাই, পৃষ্ঠপোষকতা চাই।
পরে উপস্থিত সুধীবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সম্পাদকগণ। এসময় মঞ্চে উপবিষ্ট একেকজন সম্পাদক একেক প্রশ্নের জবাব দেন। সভায় কমিউনিটির সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৯জন সম্পাদক ছাড়া অন্য কারো বক্তব্য না দেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও বিশিষ্ট রাজনীতিক ড. সিদ্দিকুর রহমান স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে বক্তব্য রাখতে চাইলে মঞ্চ থেকে তাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু তার বক্তব্যে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
