ভারতের মুম্বাইয়ে ২০০৮ সালের ভয়াবহ হামলা পাকিস্তানি জঙ্গিরাই চালিয়েছিল বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। পাকিস্তানের এক সংবাদপত্রকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শরিফ আরো বলেছেন, ‘পাকিস্তানে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন সক্রিয়। আমরা তাদের সীমান্ত পেরিয়ে মুম্বাইয়ে হত্যাকাণ্ড চালাতে দিয়েছি। পাকিস্তানে মুম্বাই হামলার মামলাও শেষ হয়নি। এমন নীতির ফলেই পাকিস্তান আজ বিশ্বে কোণঠাসা।’
তবে নওয়াজের এ স্বীকারোক্তির বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন তার ভাই শাহবাজ শরিফ। গতকাল নওয়াজের দল পিএমএল-এন এর বর্তমান প্রধান শাহবাজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘নওয়াজের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।’ তবে ফের নওয়াজ শরিফ বলেছেন, ‘যে পরিস্থিতিই হোক, তিনি সত্যিটাই বলবেন।’
মঙ্গলবার অপর এক বিবৃতিতে নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘কী এমন বলেছি, যা ভুল? পারভেজ মোশাররফ, পাকিস্তানের প্রাক্তন অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী রেহমান মালিক, প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেহমুদ দুরানিও একই কথা বলেন। ৫০ হাজার (পাকিস্তানি) মানুষের মৃত্যু সত্ত্বেও দুনিয়া কেন আমাদের কথায় আমল দিচ্ছে না? যে লোকটা (নওয়াজ) এই প্রশ্নগুলো তুলছে, তাকে বলা হচ্ছে বিশ্বাসঘাতক!’ নওয়াজের আরো দাবি, তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে পাক সংবাদমাধ্যমকে।
এর মধ্যে, পাকিস্তানের সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে নওয়াজের বক্তব্যকে খারিজ করা হয়েছে। এছাড়া লাহোর হাইকোর্টে নওয়াজের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার মামলা দায়েরে আর্জি জানিয়েছেন আফতাব ভির্ক নামের এক আইনজীবী। সম্প্রতি দুর্নীতির মামলায় পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন শরিফ। এরই জেরে আগামী নির্বাচনে তার ভাই শাহবাজকে প্রার্থী করবেন তিনি। তবে দেশটির সেনাবাহিনীর সমর্থন রয়েছে শরিফের প্রতিদ্বন্দ্বী ইমরান খানের দলের প্রতি।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ে তাজ হোটেল ও ছত্রপতি শিবাজি রেলওয়ে স্টেশনসহ প্রায় ১২টি স্থাপনায় একযোগে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এ হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন। এই হামলার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাকে দায়ী করে আসছে ভারত। আল-জাজিরা।
ইত্তেফাক/সেতু
