সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হচ্ছে ই-কমার্স। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির মতো বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ই-কমার্স ব্যবসায়ও এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের নারীরা। যদিও অনলাইন ব্যবসাটি এখনো আমাদের দেশের জনগণের কাছে একেবারেই নতুন, তার পরও অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার মতো অনলাইন জগতে ব্যবসা করার ক্ষেত্রেও আমাদের দেশে পুরুষের চেয়ে নারীরা কোনোভাবেই এখন পিছিয়ে নেই। বরং ধীরে ধীরে বাড়ছে অনলাইন বিকিকিনিতে নারীর অংশগ্রহণ। ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসায় প্রয়োজন নেই বড় পুঁজি কিংবা বিশাল শোরুমের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আর স্বল্পপুঁজি দিয়েই ব্যবসা করার সুযোগ থাকায় কিছুদিন আগ পর্যন্ত ঘরের কোনায় হাত গুটিয়ে থাকা নারীরা আজ হয়ে উঠছেন সফল উদ্যোক্তা। অনলাইনে পোশাক, প্রসাধন, ব্যাগ, খেলনা থেকে চাল, ডালসহ নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদি সবকিছুই এখন কেনাবেচা করছেন নারীরা। অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যবসাটি এখন বড় পরিসরেও দাঁড় করাচ্ছেন অনেকেই। নারী ক্রেতাদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইনে কেনাকাটা। ফলে ভিড় ঠেলে বাজারে গিয়ে কেনার চেয়ে ঘরে বসে অনলাইনে অর্ডার করতে পছন্দ করা নারীর সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন, যা অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক।
ই-কর্মাসের একটি বড় সুবিধা হচ্ছে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজটি চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে দিন দিন ই-কমার্সের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এ কারণেই আজ সফল ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য নারী শিক্ষার্থীও। শাড়ি, পোশাক-পরিচ্ছদ, খেলনা, প্রসাধনসহ অনলাইনে নানা ধরনের পণ্য বিক্রি করছেন অনলাইন শপের কর্ণধার শারমিন আক্তার। অনলাইন ব্যবসাটি যেমন সহজ, তেমনি এ ব্যবসায় বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে আজকের নারীরা যে কোনো চ্যালেঞ্জ নিয়েই সফলতা ছুঁতে সক্ষম বলেও মনে করেন তিনি।
মেয়েরা অনলাইন ব্যবসায় কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন জানতে চাইলে তিনি বেলন, ‘মেয়েদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করা। মেয়েরাও যে এ ব্যবসাটি করতে সক্ষম বা ক্রেতাদের চাহিদামাফিক পণ্য সরবরাহ করতে পারবে তা অনেক ক্রেতাই মনে করেন না। এই আস্থা অর্জন করাটাই অনলাইন ব্যবসায় মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে একবার বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারলে সফলতা আসবেই। শুধু নারী নয়, অনলাইন ব্যবসার পণ্যের মানের বিষয়ে আস্থা অর্জন করা পুরুষদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’
এ ব্যাপারে শারমিন আক্তারের পরামর্শ হচ্ছে— পণ্যের মানের ব্যাপারে আপস করা একেবারেই উচিত হবে না। যেহেতু ক্রেতারা পণ্য হাত দিয়ে ধরে দেখার সুযোগ পাচ্ছে না— তাই ক্রেতারা কিন্তু বিক্রেতার ওপরই এ ক্ষেত্রে নির্ভর করছে। বিক্রেতাকে এ বিশ্বাসটিই অর্জন করতে হবে যে, পণ্যের মানের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আপসহীন। নতুন সাইটের বিপণন বা ব্র্যান্ডিং করার জন্য নানা ধরনের সৃজনশীল চিন্তা করতে হবে। ব্যবসার শুরুতে নতুন একটি সাইট (মার্কেট) তৈরি না করে বর্তমানে যেসব সাইট (মার্কেট) প্রতিষ্ঠিত বা জনপ্রিয়, সেখানে নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে পারা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আর একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এদিকে নজর রাখুন।’
প্রযুক্তির এ যুগে বিশ্বে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের জন্যও ই-কমার্স ব্যবসার বড় একটি সেক্টর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা এখন সন্নিকটে। সমপ্রতি ভারতের গণমাধ্যম ডিকেন ক্রোনিক্যালের এক প্রতিবেদনের তথ্যে জানা যায়, আগামী তিন বছরে অনলাইনে গহনা বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারে। বিশ্বব্যাপী হবে এ বাণিজ্য।
বর্তমান বিশ্বে অনলাইনে জুয়েলারি মার্কেটের আকার হচ্ছে এক হাজার কোটি মার্কিন ডলার। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের নারীদের চেয়ে আমাদের দেশের নারীরা অংশগ্রহণ এবং সফলতা দুটোতেই কোনো অংশে পিছিয়ে থাকবে না বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু কেনাবেচা নয়, অনলাইনে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেও ঘরে বসেই আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন নারীরা। এ ক্ষেত্রেও বর্তমানে নারীদের আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ বাড়ছে।
