রুখে দাঁড়াতে হবে পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২৮

সমাজে অপরাধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু দিনে দিনে অপরাধের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যেমন ধর্ষণ এবং পারিবারিক নির্যাতন এক ভয়ঙ্কর অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা ইদানিং মহামারী আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে এর কোনো প্রতিকার হবে বলে মনে হচ্ছে না। নারী নির্যাতন মানবতার এক ভয়ংকর নিগ্রহ। সামাজিক অধঃপতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এদেশে এখন অহরহ ঘটছে নারী ও শিশু ধর্ষণ। বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের খবর সব সময় পত্রিকায় বেরুচ্ছে না। অথচ এই অসহায় নির্যাতিত নারী ও শিশুকে সমাজে অসতী বা খারাপ বলে গণ্য করে ধিক্কার দিচ্ছে সমাজপতিরা আর অপরদিকে ধর্ষণকারী বা নির্যাতনকারীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। এমন কি যৌতুক, প্রেম প্রত্যাখ্যান, কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়া, স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়েতে অনুমতি না দেয়ায় নৃশংসভাবে হত্যা করাসহ জীবন ভর নারী বিনা অপরাধে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি ভোগ করছে কিন্তু কেন? চরম দারিদ্র্য আর সামাজিক ও পারিবারিক অত্যাচারের বলি হয়ে একজন মেয়েকে বাধ্য হয়ে বেছে নিতে হয় পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য জীবন।

নারী সমাজের পশ্চাদপদতা এবং পুরুষের তুলনায় তারা নিম্নস্তরের এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারায় তারা মন আচ্ছন্ন রাখে কিংবা তাদের পিছিয়ে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চলে। এজন্য শুধু পুরুষরা দায়ী নয়, পুরুষতান্ত্রিকতায় আক্রান্ত নারীরাও অনেক ক্ষেত্রে দায়ী। যুগ যুগ ধরে নারীদের মনে যে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে, তাহলোঃ সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজ নারীদের জন্য নয়। এখনও এই ধারণাই বদ্ধমূল রাখার চেষ্টা চলে যে নারীরা ঘরের বাইরে গেলে তাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবন ধ্বংস হয়। মেয়েদের প্রতি এ ধারণাকে কিছু প্রচার মাধ্যমগুলো যেমন- নাটক, চলচ্চিত্র, গল্প, উপন্যাস আরও দৃঢ়মূল করে। যার ফলে বর্তমান সময়ে বিয়ে ও যৌতুক, তালাক ও নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ, স্ত্রী হত্যার মতো নৃশংসতা সমগ্র সমাজকে বিষাক্ত করে তুলেছে।

সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে নারীর অগ্রগতি বড় ভূমিকা রাখলেও ঘরের মধ্যে নারীর অবস্থা তেমন বদলায়নি। দেশের বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশই স্বামীর মাধ্যমে কোনো না কোনো সময়ে, কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ বলেছেন, তারা স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন ভোগ করেছেন, ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক এবং ৫৩ শতাংশ নারী স্বামীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।