বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে আন্দোলন অব্যাহত, ১৪ জনের নামে মামলা

আপডেট : ২১ মে ২০১৮, ১৬:০৮
দিনাজপুরের ফুলবাড়ির পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা ১৯ দফা দাবিতে নবম দিনের মতো আজ সোমবারও কয়লাখনির প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে। সংঘটিত ঘটনার তদন্তে জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল রবিবার তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 
আন্দোলনের কারণে অবরুদ্ধ রয়েছেন খনিতে অবস্থানরত বিদেশি তিনশ' খনি বিশেষজ্ঞসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পুলিশের সহায়তায় আবাসিক পরিবারগুলোর নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
 
আন্দোলনরত শ্রমিকদের সংগঠন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, ক্ষতিগ্রস্ত ২০গ্রামের সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মশিউর রহমান বুলবুল ও মিজানুর রহমান মিজান বলেন, আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে কর্তৃপক্ষ হামলা, মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোন কিছুতেই আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা বাড়ি ফিরবে না। আজ সোমবারের মধ্যে দাবি পূরণ করা না হলে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে খনির সকল গেটে অবস্থান নিয়ে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বের হতে দেওয়া হবে না এবং আন্দোলনের ধারাকে আরো তীব্রতর করা হবে। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাসহ মারপিট ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বাদি হয়ে গতকাল রবিবার খনির মহাব্যবস্থাপক-জিএম (পিঅ্যান্ডপি) এবিএম কামরুজ্জামান ও মহাব্যবস্থাপক-জিএম (প্রশাসন) মো. আবুল কাশেম প্রধানীয়াসহ ১৪জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
 
খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, খনির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল ঢাকায় খনিজ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নাসরুল হামিদ, সচিব রাহমাতুল মনিম ও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ঘটনার তদন্তে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর সাথে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হয়েছে। ওই বৈঠকে আন্দোলনকারীদেরকে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। কাজে যোগ দিলে কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে। শ্রমিকদেরকে কাজে যোগ দেওয়া কথা বলার পরও কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
 
তিনি আরও বলেন, লোকসান এড়াতে চীনা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব জনবল দিয়ে গতকাল সোমবার সকালের শিফট থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু করেছে। খনির কার্যক্রমকে অচলাবস্থায় ফেলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই একটি মহলের উস্কানিতে আন্দোলনকারীরা খনি কর্তৃপক্ষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের অপকৌশল চালাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের হামলায় আহত হয়ে সহকারী ব্যবস্থাপক সাজেউর রহমান সাজুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আন্দোলনকারীরা নিজেদের অপকর্মকে আড়াল করতে কর্মকর্তাদের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টাও চালাচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/এসএস