বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় প্রতারণার মাধ্যমে তালাক দেয়া স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্কের অপরাধে নজরুল ইসলাম রুবেল নামের এক প্রধান শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
তালাক দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্কের অপরাধে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা সাবেক স্ত্রী শাহিদা আক্তার হেলীর দায়ের করা মামলায় পুলিশ আজ মঙ্গলবার তাকে আটক করে পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠালে বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। নজরুল ইসলাম রুবেল বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার মধ্য নলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাদের নওশিন ইসলাম রথি নামের ৯ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক রুবেলের সাবেক স্ত্রী শাহিদা আক্তার হেলী জানায়, ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল শরণখোলা উপজেলার মালসা গ্রামের বাসিন্দা প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম রুবেলের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবীতে বিভিন্ন সময় নজরুল ইসলাম রুবেল স্ত্রীকে অত্যাচার নির্যাতন করতে থাকে। ২০০৯ সালে শাহিদা আক্তার তার বিরুদ্ধে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানায় একটি যৌতুক মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার নজরুল ইসলাম রুবেলের দুই বছরের সাজা হলে সে শাহিদা আক্তার হেলীকে তালাক দেন এবং সাবিনা ইয়াসমিন নামের আরেক নারীকে বিয়ে করেন। এরপরও রুবেল তার প্রথম স্ত্রী হেলীর সাথে মীমাংসার প্রস্তাব দিলে নিজ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে হেলী প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। এর মধ্যে রুবেল হেলীকে তার বাবার বাড়িতে রেখে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতে থাকে। এসময় এ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে রুবেল হেলীকে বৈধ স্ত্রী এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে অঙ্গিকার করে। পরবর্তীতে রুবেল হেলীকে সাথে নিয়ে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা নিষ্পত্তি করে এবং হেলীর সাথে তার বাবার বাড়িসহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত জানুয়ারির ৬ তারিখে রুবেল মোবাইল ফোনে হেলীকে জানান- তার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। ২০১৬ সালের ১২ আগস্ট তাকে তালাক দিয়েছেন। এরপর শাহিদা আক্তার হেলী তালাক দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অপরাধে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম রুবেলকে আটক করে আদালতে পাঠায়।
ইত্তেফাক/এসএস
