হঠাত্ গোল হজম বন্ধ করতে হবে

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৯

বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলের এখন বড় সমস্যা হচ্ছে তারা খেলতে খেলতে হঠাত্ গোল খেয়ে বসে। খেলা থেকে হারিয়ে যায়। যখনই একটা তখনই গোল হজম করে আবার যখন খেলায় ফিরে আসে তখন গোলও পায় খেলাও ভালো থাকে। এসব সমস্যা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর মেয়েদের ছুটি দেয়া হয়েছিল। ছুটি কাটিয়ে ক্যাম্পে ফেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন কোচ এবং বাফুফের স্ট্র্যাটেজিক ডাইরেক্টর অস্ট্রেলিয়ান পলস্মলী। রক্ষণভাগের ভুলে নেপালে সাফে ভারতের বিপক্ষে টপাটপ গোল হজম করেছে সেমি-ফাইনালের ম্যাচে। ভুল ছিলো মিয়ানমার খেলতে যাওয়া অলিম্পিক ফুটবল বাছাইয়ের ম্যাচেও। সব ভুলগুলো একসঙ্গে রেখে দেখা গেছে মেয়েরা যখনই খেলা থেকে হারিয়ে যায় তখনই অঘটন ঘটে। পুরো খেলায় ভালো খেলেও সেটার মর্যাদা রাখা যাচ্ছে না। ভুলগুলো শুধরে বঙ্গমাতা ফুটবলে খেলাবে বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দল। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বললেন, ‘আমরা ঢাকায় ফিরে রক্ষণভাগ নিয়ে কাজ করেছি। ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছি। বিগত ম্যাচগুলোতে যেসব ভুল হয়েছিল তা খুঁজে খুঁজে বের করে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।’ কোচ বলছেন, ‘এখন দলের অবস্থা ভালো। প্রস্তুতিও ভালো।’ তিনি জানিয়েছেন মিয়ানমার এবং নেপালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, এই দুটি টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলে।

নেপালে মেয়েরা খেলাটা শুরু করেছিল ভালোই। কিন্তু ছোট খাটো ভুলের কারণে খেলা থেকে বেরিয়ে যাওয়াটা ভালো লক্ষণ নয় মনে করছেন কোচ। তবে অন্যান্য টুর্নামেন্টের মতোই বঙ্গমাতা ফুটবলও কঠিন পরীক্ষার টুর্নামেন্ট।

বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কিরগিজস্তান এবং আরব আমিরাত। ছোটন বলছেন,‘কঠিন প্রতিপক্ষ। শক্তিশালী দল দুটোই। এখানে অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল দল খেলবে। যারা আসবে তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই খেলবে। আমাদের কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’

 ছোটন যাই বলুক বাংলাদেশের ফুটবলাররা সবাই বয়সে ছোট। মারিয়া, মনিকা, তহুরা, সানজিদা, আনাই মগিনি, সামমুন নাহার, রূপনা চাকমা, আনুচিং মগিনিরাই অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে খেলছে না হয় মূল জাতীয় দলে খেলছে। খেলোয়াড়দের উপর চাপ পড়ছে। ছোট বয়সের খেলোয়াড়রা বড়দের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে চাপে পড়ছে। খেলা থেকে হারিয়ে গোল হজম করছে। ছোটন বললেন, ‘কিছু করার নেই। প্লেয়ার না থাকলে আপনি কি করবেন। রিসোর্স না থাকলে কি করবেন। আপনার ফ্যামিলিতে যা রিসোর্স আছে তাই নিয়েই তো আপনি করবেন। এর বাইরে তো যেতে পারবেন না। এখানে যারা আছে সেই সেরা খেলোয়াড়রাই তো খেলবে। কাউকে জোর করে তো খেলানো যাবে না।’ ছোটন বলেন, ‘প্লেয়ার আসছে। নতুন প্লেয়ার তৈরি হচ্ছে। কিন্তু তাদেরকে তৈরি হওয়ার সময় দিতে হবে। এখন যারা তৈরি হয়েছে এদেরকে ধরে রাখতে হবে যেন হারিয়ে না যায়।’

সমস্যা আছে। সংকট আছে। এর মধ্যেও মহিলা ফুটবল দল এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাওয়াটা ধরে রেখে সাফল্য তুলে আনতে চান কোচ ছোটন। বাফুফে ভবনের টার্ফের প্রতিদিন দুই বেলা অনুশীলন চলছে। গতকাল প্রথম দফায় অনুশীলন শেষে কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন জানালেন তারা বঙ্গমাতা ফুটবলের জন্য প্রস্তুত।

ঘরের মাঠে খেলা। প্রথমবার বঙ্গমাতার নামে আন্তর্জাতিক ফুটবল। কোচ ছোটন চাইছেন যেন স্মরণীয় কিছু করা যায়। বলছিলেন,‘দেশের মাটিতে খেলাটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই।’

সোমবার ঢাকায় শুরু বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট। ৬ জাতির টুর্নামেন্টে আরব আমিরাত, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান, লাওস এবং স্বাগতিক বাংলাদেশ খেলবে দুই গ্রুপে।