৫০ হাজার টাকা বিকাশ করে এজেন্টকে বলল 'বোনাস এলে টাকা দেবো'

আপডেট : ২৩ মে ২০১৮, ২০:১৯

বিকাশ এজেন্টের দোকান থেকে ছয়টি পৃথক নম্বরে ৫০ হাজা টাকা পাঠিয়ে দোকানদারকে টাকা না দিয়ে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রলীগকর্মীর বিরুদ্ধে। হাফিজুল ইসলাম নামে এই ছাত্রলীগকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র ও হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সরকার জহির রায়হানের অনুসারী।

জানা যায়, হাফিজুল বুধবার বিকালে মুহসীন হলের বিকাশ এজেন্ট খলিলের দোকানে গিয়ে একটি নম্বরে প্রথমে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। এ সময় দোকানে রাব্বি নামে ১২-১৩ বছরের এক ছেলে ছিল। সে তার কথা মতো একটি রবি নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠানোর পর টাকা পরিশোধ করার কথা বলে। এ সময় হাফিজুল পকেটে টাকা আছে বলে আরও পাঁচটি নম্বরে ৪০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে।

দোকানদার তার কথামত ওই নম্বরগুলোতে ৪০ হাজার টাকা পাঠায়। টাকা পাঠানোর পর দোকানদার টাকা চাইলে সে রবি অফিস থেকে ২৪ লক্ষ টাকা বোনাস এলে দোকানদারের টাকা পরিশোধ করবে বলে জানায়। এ সময় আশেপাশের লোকজন  তাকে ধরে হল মুহসীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি সরকার জহির রায়হানের কক্ষে নিয়ে যায়।

জহির রায়হান ওই ছাত্রলীগ কর্মীকে দোকানদারের টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেন।  

যে নম্বরগুলোতে টাকা পাঠানো হয়েছে সেগুলো হলো, ০১৮৩৯০৫৪৬৮৮, ০১৮৮৫৭২১৮৩১, ০১৮২৬৩১৮৩৬২ ও ০১৭০৮১৮৩২৩১ (১০ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে)। পাঁচ হাজার করে পাঠানো হয়েছে ০১৮৬৩৬৯০১২১ও ০১৮৬৩৬৯০১২১ এই নম্বরে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাফিজুল ইত্তেফাককে বলেন, রমজান উপলক্ষে রবির অফিস থেকে ৫০ হাজার টাকা দিলে তাকে ২৪ লক্ষ টাকা দেয়া হবে বলে বলা হয়। এজন্য সে দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে।

বিকাশ এজেন্ট খলিল বলেন, আমি গরিব মানুষ। আমার টাকা না দিলে মারা যাবো।

এ বিষয়ে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সরকার জহির রায়হান বলেন, আমি তাকে যে কোনোভাবে দোকানদারকে টাকা দিয়ে দিতে বলেছি।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষকে অবহিত করলে তিনি বাইরে আছেন বলে জানান।

সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাইনউদ্দিন মোল্লা বলেন, এটা হল প্রশাসনের বিষয়। হল প্রশাসন আমাদের সাহায্য চাইলে আমরা দিব।

ইত্তেফাক/নূহু