দেশের প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। কাজগুলো যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়—সেটা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবারই দায়িত্ব। অথচ সেদিকে কারো নজর নেই। সবাই ব্যস্ত দেশবিদেশের রাজনীতি নিয়ে। বাংলায় সুপরিচিত একটি প্রবাদ আছে যে, ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলায়’—যার অর্থ কারো অজানা নয়। আমাদের অবস্থাও কি তবে তাই? এ বিষয়ে টেলিফোন ও ই-মেইলে পাঠকের দেওয়া মতামত আজ প্রকাশিত হলো
দেশের সর্বত্র উন্নয়নের যে জোয়ার বয়ে যাচ্ছে তা অস্বীকার করার জো নেই। কিন্তু আমাদের দেশে আবহমানকাল থেকে দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন এবং সমাজের এক বিশেষ শ্রেণির কাছে সমগ্র উন্নয়ন কাজ ও উন্নয়ন বরাদ্দ জিম্মি থাকে। শুধু তাই নয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা গেছে কাজীর গরু কাগজে আছে কিন্তু গোয়ালে নেই। মূলত শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া কোনোদিন গণতন্ত্র সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে না এবং উন্নয়ন কাজও গতি পায় না।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
আমরা বাঙালি জাতি, অনেক রক্তের দামে অর্জন করেছি বাংলাদেশ। আজ যখন উন্নত হচ্ছে দেশ, অর্থনৈতিক মুক্তি পাচ্ছে এদেশের মানুষ, তখন আমাদের দেশের অনেক মানুষ সুখে থাকলেও ভূতে কিলিয়ে নিচ্ছে, খাচ্ছে বসে বসে অথচ তারা কিছুই দিতে পারেনি দেশ ও জাতিকে। তারাই আবার দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা গেয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের কোনোভাবে ক্ষমা যে করা যায় না।
ফারুক আহমেদ
বাঘমারা, রাজশাহী
মফস্বল এবং শহরের ব্যাপক উন্নয়নের কাজের ধারা চলছেই। সেই কাজগুলো যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় সেটা নিশ্চিত হওয়া দরকার। অথচ এ বিষয়ে কারোরই নজর নেই। শুধু ব্যস্ত দেশ-বিদেশের নানা রাজনীতি নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে। আমাদের অনেকেই ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলায়’-এর মতো হয়েছে।
সালমা আফরোজ
ফার্মগেট, ঢাকা
উপজেলা এবং মফস্বলে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন সময় দুর্নীতি এবং অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কারণ, তারা সরকার দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন অথবা যে কোনোভাবে তাদের সন্তুষ্ট রাখেন। তাই বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিলক্ষিত হলেও এর সঙ্গে অদৃশ্য দুর্নীতি বিদ্যমান রয়েছে। তাই আমাদের পরামর্শ—উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় যে কমিটি গঠন করা হয় তাতে সকল দলের অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। তাহলে কোথাও কোনো কথা উঠবে না এবং সকলেই সন্তুষ্ট থাকবে।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
রাজনীতি ও উন্নয়নের জোয়ারে দেশের কতিপয় ব্যক্তি আজ খুবই বেহাল। পরচর্চা ও পরনিন্দা নিয়ে তারা বেশি ব্যস্ত। দেশ ও জাতির উন্নয়নের চেয়ে নিজের আখের গোছাতে তারা বাকপটু ও কর্মবীর। কিন্তু এটা ঠিক নয়। যে অবস্থানেই মানুষ থাকুক না কেন তার একটা দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ থাকা অবশ্যই উচিত। সচেতন ব্যক্তি মাত্রই তার দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে সর্বদা সজাগ থাকে। যে যার অবস্থানে থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে জনকল্যাণমূলক কাজকে এগিয়ে নিয়ে দেশের সেবায় অংশ নেবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।
মো. আবুল কালাম আজাদ
সরদারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত যে হারে উন্নয়ন হচ্ছে, তা ধারণার বাইরে। গ্রাম হবে শহর—এই স্লোগানে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। অথচ আমরা সবাই ব্যস্ত। বিএনপি আছে তাদের রাজনীতি নিয়ে। এই রাজনীতি বাদ দিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায়।
ডা. মোহাম্মদ জামিল রহমান
গোপালপুর, টাঙ্গাইল
বিশ্বব্যাংক আইএমএফ জানিয়েছে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬৮টি হতদরিদ্র মানুষের দেশকে গরিবের তালিকা থেকে বের করে আনা হবে। সেজন্য বিশ্বের ১৮৯টি দেশকে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আমাদের দেশ উন্নয়নের রোল মডেল তৈরি হতে চলেছে। সুতরাং আমাদের সবার উচিত যার যার স্থান থেকে এই দায়িত্ব পালন করা।
অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজউদ্দিন
কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
শুধু উন্নয়নের কর্মকাণ্ড চললেই হবে না সেগুলোকে ভালোভাবে মনিটরিং করতে হবে। শুধু রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেই চলবে না। তাই আমাদের প্রত্যাশা— উন্নয়নের বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
ইব্রাহিমপুর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা
আমরা যারা মানুষ—আমাদের মধ্য থেকে অনেকেই আছেন যে, সে তার অবস্থান থেকে সুখে আছে এটা মনে করে না। ফলে সুখের বদলে ‘অসুখ; নামের শব্দটি পেয়ে বসে। নানা রকম অশান্তিতে ভোগেন। তাই আমরা মনে করি যে-কোনো কাজই সুষ্ঠুভাবে সমাধানের জন্য প্রয়োজন নজরদারি ও দায়িত্ব কর্তব্যপরায়ণতা।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
আমাদের দেশে এখন নানাভাবে ব্যাপক উন্নয়ন চলছে। দেশ এখন সত্যিই উন্নয়নের মহাসড়কে। বাংলাদেশ এখন আর আগের স্থানে নেই। এগুলো দৃশ্যমান এখন। অথচ একশ্রেণির রাজনীতিবিদ তাদের রাজনীতি নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। এগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেখতে হবে দেশ সত্যিকারভাবে উন্নয়ন হচ্ছে কি না।
ফেরদৌসী আরা গীতালী
রিক, ধানমন্ডি,
ঢাকা
আমাদের দেশের একজন প্রখ্যাত শিল্পী গান করেছেন ‘সুখ তুমি কি আমার জানতে ইচ্ছে করে’। লেখক রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর একটি প্রবন্ধ ‘সুখ না দুঃখ’। তাঁর প্রবন্ধে তিনি প্রমাণ করতে পেরেছেন যে পৃথিবীতে সুখের পরিমাণ বেশি। কেউ যদি একটি মুক্ত আকাশে বনের পাখিকে খাঁচায় বন্দি করে দুধ কলা খাওয়ায় তবুও পাখিটি সুযোগ পেলে খাঁচা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তার মানে এই নয় যে ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলায়’। বন্দিরা জেলখানার ভিতরে যে সেবা, খাদ্য গ্রহণ করে তারা হয়তো বাহিরে ঐ রকম খাওয়া খাদ্য খেতে পারে না। সে যদি ঐ বন্দিজীবন থেকে মুক্ত হতে চায় সে ক্ষেত্রে কি ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলায়’?
খন্দকার কামরুজ্জামান
৩৬৩/১০ উত্তর পীরেরবাগ,
মিরপুর, ঢাকা ১২১৬
নিজের দেশের উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন তা করা একজন নাগরিকের দায়িত্ব। তবে মানুষ তা না করে কী করছে! তারা দেশ-বিদেশের রাজনীতি নিয়ে পড়ে আছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথাই চিন্তা করুন। আন্দোলনের নামে জুলুম, বোমাবাজি, নৈরাজ্য, মানুষ হত্যার একটা দীর্ঘ অসহনীয় কাল পেরিয়ে আমরা মোটামুটি একটা স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছেছি।
সাবরিনা সুলতানা
ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকোনমিক্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলা একাডেমির অভিধানে ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলায়’ প্রবাদের ব্যাখ্যা দেওয়া আছে এভাবে ‘সুখের মর্যাদা না বুঝে স্বেচ্ছায় দুঃখ বরণ করা।’ আমরা অনেকেই জানি একজন বাঙালি আরেকজন বাঙালির ভালোটা সহ্য করতে পারেন না।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর
মানুষের আকাঙ্ক্ষা হলো—সুখ। সেই সুখ যে পেয়ে যায়, সে বিগড়ে যাবে! তাই কি সম্ভব? না তা হয় কখনো? সবার আগে আমাদের জানা দরকার, সুখ জিনিসটা কী? সুখ আসলে কী তা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। আমি বলতে চাই, কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রয়োজনে কতটুকু প্রাপ্তিতে একজন সন্তুষ্ট হবেন তার ওপর সুখ নির্ভর করে। ধরা যাক, একজন ব্যক্তির অর্থনৈতিক সক্ষমতায় তিনি একটি সাইকেল কিনতে পারবেন। কিন্তু তিনি যদি আফসোস করেন, কেন একটি মোটরসাইকেল কিনতে পারলাম না তাহলে তিনি অসুখী। আর যদি কেউ তার যা সামর্থ্য আছে তাতেই তুষ্ট থাকেন অর্থাত্ ওই সাইকেলেই যদি একজন ব্যক্তি মানসিকভাবে তৃপ্ত হতেন, তাহলে তিনি সুখ খুঁজে পেতেন নিশ্চিত।
মোছা. বিলকিছ আক্তার
সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল
আগামীর স্বপ্ন দেশের প্রাণকেন্দ্র গ্রাম, জেলা, উপজেলা উন্নয়ন কাজগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে। দেশের উন্নয়ন, জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নকে পিছনে না নিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে জাতিকে পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ আবশ্যক।
শাহ মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন হিরো
কালিহাতী, টাঙ্গাইল
আমাদের দেশের প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়নের কাজের ধারা চলছে। সবাই ব্যস্ত দেশ-বিদেশের রাজনীতি নিয়ে। মনে হচ্ছে ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলায়’— এই প্রবাদে আজ আমরা উপনীত হয়েছি।
মো. সিকান্দার আলী
কনকর্ড টাওয়ার, শান্তিনগর,
ঢাকা
বাংলা সাহিত্যে অনন্য প্রবাদ সুপরিচিত ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলায়’। আমাদের প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন চলছে। কাজগুলো যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় সেটা নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব।
পারভীন সুলতানা
রামচন্দ্রপুর, শেখপাড়া, ঝিনাইদহ
দেশের প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে কাজগুলো যাতে সুষ্ঠু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। শুধু রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেই চলবে না। বাংলার সেই সুপরিচিত প্রবাদ যে, ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলায়’ অথচ এই প্রবাদের অর্থ অনেকেই জানে না। জানলেও বোঝে না।
খন্দকার মাস-উদ-জ্জামান মাসুদ
নাজিমুদ্দিন রোড, চানখারপুল, ঢাকা
পরশ্রীকাতরতা বাঙালির এক অনন্যসাধারণ বৈশিষ্ট্য, তাই সবাই ব্যস্ত দেশ-বিদেশের রাজনীতি নিয়ে। আমাদের নিজেদের উন্নয়ন এবং তা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার দিকে নজর না দিয়ে, অন্যের চরকা নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানোর অভ্যাস চিরকালের। তাই ‘সুখে থাকাতে ভূতে কিলায়’ এটা আমাদের জন্য শুধুই যে প্রবাদ তা নয়, বাস্তবতা বৈকি।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
হক ভিলা, মেরাদিয়া, ঢাকা
