‘জনগণের জন্য দেশ ও প্রশাসন। কিন্তু সব বিভাগেই জনগণ সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ আসছে। জনগণ সেবা পেলে এতো অভিযোগ আসবে কেন?
কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত দুদকের গণশুনানিতে বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে উপস্থিত ব্যক্তিদের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম।
গতকাল বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা পরিষদের এড. সাহাব উদ্দীন মিলনায়তনে সকাল হতে বেলা দুইটা পর্যন্ত চলমান গণশুনানিতে তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের হাজার হাজার দুদকে আসছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ঘটনার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সকালে হাসপাতালে হাজিরা দিয়ে ডাক্তাররা কোথায় যান? কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সৃষ্ট জটিলতা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন দুদক কমিশনার।
দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে দুদক কমিশনার বলেন, কঠোর শাস্তির মুখামুখি হতে হবে দুর্নীতিগ্রস্তদের। গণশুনানিতে সদর হাসপাতালে চিকিত্সা বঞ্চিত সেবা প্রার্থীদের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিবেশ। অভিযোগকারী নাজিম উদ্দীন বলেন, কথায় কথায় সদর হাসপাতালের ধর্মঘটের কারণে দুই সপ্তাহে ২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। চিকিত্সাসেবা প্রার্থীদের ধরে মারধর করে জেলে পাঠিয়েছে ডাক্তাররা। তিনি আরো অভিযোগ করেন, রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে খাবারের মানও খুবই নিম্ন।
উত্তর পর্বে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. বিধান পাল সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় উপস্থিত সবার মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করে।গণশুনানিতে কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিস, জরিপ অফিস, সাব রেজিস্টার অফিস, পল্লীবিদ্যুত্ অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস, পিআইও অফিস, সমবায় অফিস, সমাজসেবা অফিস, যুব উন্নয়ন অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ আরো বেশ ক’টি সরকারি অফিসের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থেকে গণশুনানির বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও অভিযোগের সমাধান করবেন বলে জানান।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে গণশুনানিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
