বেনাপোলে পেঁয়াজের আমদানি বাড়লেও মূল্য কমেনি খোলা বাজারে

আপডেট : ২৬ মে ২০১৮, ১৬:০৫
সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধায় ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ দিলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা হওয়ায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৭ টাকার পেঁয়াজ বেড়ে এখন ৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। অতিরিক্ত মুনাফালোভী বিক্রেতাদের কারসাজির কারণে অস্বাভাবিক হারে মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা সাধারণ। বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় রমজানে পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। 
 
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ব্যাপক হারে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। বাজার সহনশীল রাখতে পেঁয়াজ আমদানি গতিশীল করতে বেনাপোল বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। গত রবিবার থেকে এ পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত ৭দিনে ৩০৬টি ট্রাকে ১০২টি চালানে ভারত থেকে ১০ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। রমজান উপলক্ষ্যে দিন দিন আমদানি আরও বেড়ে চলেছে। ভারত থেকে নাসিক, হাসখালি, বেলেডাঙ্গা ও খড়কপুর জাতের পেঁয়াজ আমদানি হয়ে থাকে। এদেশে নাসিকের পেঁয়াজের চাহিদা বেশি।
 
জানা যায়, এর আগে ১০ শতাংশ শুল্ক কর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হতো। তখন কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত খুচড়া বাজারে কিনতে হতো সাধারণ ক্রেতাদের। নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য পেঁয়াজের বাজার মূল্য ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার সাধ্যের মধ্যে রাখতে ২০১৬ সালের রোজার আগে সরকার পেঁয়াজের ওপর আমদানি শুল্ককর প্রত্যাহার করে। এরপর থেকে আর শুল্ককর সংযোজন হয়নি। তবে শুল্ককর উঠলেও অতিরিক্ত লাভে বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটের কারণে হঠাৎ করে অস্বাভাবিকহারে মূল্য বেড়ে যায়। 
 
ভারতের রফতানি মূল্য প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে ২০৫ মার্কিন ডলারে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রতিটনের মূল্য দাঁড়ায় ১৭ হাজার ১৫ টাকা। কেজিপ্রতি আমদানি খরচ পড়ছে প্রায় ১৮ টাকা। এলসি খরচসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর পর্যন্ত পেঁয়াজ পৌঁছাতে খরচ পড়ছে প্রতিকেজি ১৯ টাকা। আমদানি হওয়া পেঁয়াজ বন্দর থেকে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩০ টাকা। 
 
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ব্যাপক হারে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। বাজার সহনশীল রাখতে পেঁয়াজ আমদানি গতিশীল করতে বেনাপোল বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 
 
ইত্তেফাক/এমআই