চাটমোহরে বড়াল দখল চলছেই

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৫০

চাটমোহর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বড়াল নদের দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। নদের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে একদিকে বাঁধ অপসারণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে চাটমোহর পৌরসভা বড়ালের পাড় দখল করে মার্কেট ও রাস্তা তৈরি করেছে। নদের বিভিন্ন অংশ প্রতিনিয়ত দখল করা হচ্ছে। চাটমোহর পুরাতন বাজার থেকে নতুন বাজার জারদিস মোড় পর্যন্ত নদের দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮০ সাল পর্যন্ত বড়াল নদে পানিপ্রবাহ ছিল। ১৯৮১ সালে রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মা থেকে বড়ালের উত্সমুখে ও পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দহপাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দুটি জলকপাট নির্মাণ করে। এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে নৌযান চলাচল ব্যাহত হতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা তখন নদ পারাপারের জন্য সেতু তৈরির দাবি তোলেন। কিন্তু সেতু না করে বড়ালে চারটি আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে বড়ালে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। দিনে দিনে দখল-দূষণে ২২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বড়াল পরিণত হয় মরা খালে। পানি না পেয়ে ব্যাহত হতে থাকে বিস্তীর্ণ চলনবিলের চাষাবাদ। ২০০৮ সালে বড়াল রক্ষায় তৈরি হয় আন্দোলন কমিটি। সহায়তা করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), এলআরডিসহ বিভিন্ন সংগঠন। বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির নিয়মিত সভা, সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে বেলার দায়ের করা রিট মামলায় উচ্চ আদালত বড়াল থেকে সব বাঁধ ও জলকপাট অপসারণের নির্দেশ দেন সরকারকে। সে অনুযায়ী বাঁধ অপসারণ করে সেতু নির্মাণ করা হয়। এতে স্বস্তি ফিরতে থাকে বড়াল পাড়ের বাসিন্দাদের।

চাটমোহর পৌরসভার মেয়র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল বলেন, ‘এক সময় ওই স্থানে নদের পাড় দিয়ে একটি রাস্তা ছিল। আরএস মানচিত্রেও রাস্তা আছে। যা পরবর্তী সময়ে নদে বিলীন হয়। ফলে স্থানীয় লোকজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা রাস্তাটি তৈরি করেছি। কিছু গরিব লোক সেখানে দোকান তৈরি করে ব্যবসা করছে। আমরা মার্কেট করিনি।’

বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এসএম মিজানুর রহমান বলেন, ভাঙনের পর নদ দিকপরিবর্তন করে যেদিক দিয়ে যাবে, সেটাই নদ। ফলে কেউ ইচ্ছা করলেই ভরাট করে মার্কেট করতে পারেন না। তারা নদী রক্ষা কমিটির সভায় বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে দোকান ঘরগুলো অবৈধ স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করে উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়েছি। অনুমোদন পেলেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। অন্যদিকে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আর মাটি ভরাট করবে না বলে জানিয়েছে।’