বদরগঞ্জে প্রকাশ্যে ৪ নারীকে পেটালেন ইউপি সদস্য

আপডেট : ৩০ মে ২০১৮, ১৯:৩৬
রংপুরের বদরগঞ্জের মধুপুর ইউনিয়নে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চার নারীকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ভিজিডি কার্ডধারী এক নারীর ছবি শনাক্ত করার অপরাধে তাদেরকে মারধর করা হয়। ওই ইউপি সদস্যের নাম মোস্তাফিজার রহমান ফিজার। সে ওই ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
 
চার নারীকে মারধরের সত্যতা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হক। তিনি অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন। বুধবার দুপুরে মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
 
জানা যায়, মধুপুর ইউনিয়নে দুস্থমাতা প্রকল্পের বেশ কজন উপকারভোগীর কার্ডে গরমিল ধরা পড়ে। এ কারণে স্থানীয় সমাজসেবা অফিস বিষয়টির তদন্তে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭নং ওয়ার্ডের এক দুস্থ নারীর ছবি শনাক্ত করেন মণ্ডলপাড়ার আব্দুস সালামের স্ত্রী মোরশেদা বেগম। আর এতেই ক্ষেপে যায় ওই ওয়ার্ডের মেম্বার মোস্তাফিজার রহমান ফিজার। 
 
ক্ষিপ্ত মোস্তাফিজার তদন্ত কমিটির সামনে মোরশেদা বেগমকে নাজেহাল করে। বুধবার দুপুরে চেয়ারম্যান আয়নাল হককে ওই নারী বিচার দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। এ সময় চেয়ারম্যান না থাকলেও সেখানে ছিলো ইউপি সদস্য মোস্তাফিজার রহমান। সে ওই নারীকে দেখে ক্ষেপে যায়। এক পর্যায়ে ওই নারীকে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে সে। এ সময় তাকে উদ্ধারে তিনজন নারী এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারপিট করে ইউপি সদস্য।
 
অন্য তিন নারী হলেন, উত্তর বাওচণ্ড বালাপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের স্ত্রী তহুজা খাতুন(৪০), রাজারামপুর নাওপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান মিজানের স্ত্রী শরিতন নেছা(৩২), এমদাদুল হকের স্ত্রী সমেদা খাতুন(৩০)। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ওই নারীরা ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন।
 
খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ওই নারীদের উদ্ধার করে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এ সময় এলাকার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশী হস্তক্ষেপে তা শান্ত হয়। 
 
চার নারীকে মারধরের সত্রতা স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হক বলেন, মোস্তাফিজারের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তিনি টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। তার আচরণেও সবাই ক্ষিপ্ত। চার নারীকে মারধরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।
 
অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার মোস্তাফিজার রহমান ফিজার মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ওই চার নারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হক বলেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু