রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসায় গৃহকর্ত্রীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে রত্না বেগম (২৩) নামে এক গৃহকর্মী গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহকর্ত্রী মুন্নী বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রত্নার বাবা জাহাঙ্গীর আলম ধানমন্ডি থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। গত মঙ্গলবার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা রোড-৩/এ, ৫০ নম্বর বাড়ির ৪/বি নম্বর ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহ হিল কাফী বলেন, রত্না ৭ মাস ধরে মহিউদ্দিন ওরফে মাইনুদ্দিনের ফ্ল্যাটে কাজ করতেন। সিটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রত্না জবানবন্দিতে বলেন, ৬ মাস ধরেই কারণে অকারণে মুন্নি বেগম তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। মঙ্গলবার দুপুরে রান্না খারাপ হওয়ায় বেতের লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। এসময় গৃহকর্ত্রী তাকে বলেন, তুই মরে যা। না হলে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হবে। মানুষকে বলব যে, সে আত্মহত্যা করেছে। গৃহকর্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের কথা শোনার পর সে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পুলিশ জানায়, অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় রত্নাকে মোহাম্মদপুরের সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠায়। রত্নার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরসীতা গ্রামে। হাসপাতালে জবানবন্দিতে রত্না নিজেই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ জানান, সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মেয়েটি নিজেই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
