গোপালগঞ্জের গোহালা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা বন্ধ

আপডেট : ০১ জুন ২০১৮, ১২:৫৯
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ওই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন গত ২৯ এপ্রিল অবসরে যান। তারপর থেকেই ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে গেছে।
 
প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় গরিব ও অসহায় রোগীরা চরম দুর্ভোগে  পড়েছেন। দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারীরা ২৩ কিলোমিটার দূরে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারছেন না।
 
গোহালা ইউনিয়নের ৬০ হাজার মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে সরকার গোহালা ইউনিয়নে একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করে। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা ও বিনামূল্যে  ওষুধ প্রদান করা হয়। এখানে জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও উপসহকারী মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন একাই এতদিন ওই ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছিলেন। তিনি অবসরে যাওয়ায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি একেবারেই অচল হয়ে পড়েছে। সেখানে চিকিৎসা সেবা দেয়ার মতো কোন জনবল নেই। তাই ভেঙে পড়ছে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা। ফলে পশ্চাৎপদ গোহালা ইউনিয়নবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছেন না। খালি হাতেই ফিরছেন বাড়ি।
 
গোহালা গ্রামের বৃদ্ধ কাজী মোমিন উদ্দিন (৯২) বলেন, আমি কোমরের ব্যথায় ভুগছি। গত এক মাসের মধ্যে পাঁচদিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসেছি। কিন্তু কোন ডাক্তার নেই। তাই চিকিৎসা পাচ্ছি না।  প্রাইভেট চেম্বার, ক্লিনিক অথবা মুকসুদপুর হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর সঙ্গতি আমার নেই। তাই নিরুপায় হয়ে কোমর ব্যথায় প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছি।
 
গোহালা ইউনিয়নের ভট্টাচার্যের কান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. খোরশেদ শেখ একই গ্রামের নূর ইসলাম শেখ বলেন, ডাক্তার অনোয়ার হোসেন একই এতদিন এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র সামাল দিয়েছেন। ১মাস আগে তিনি অবসরে গেছেন। তারপর থেকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র বন্ধ। চিকিৎসার ক্ষেত্রে গোহালা ইউনিয়নবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। আমরা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই।
 
গোপালগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি কাজী আব্দুর রশীদের বড় ছেলে  জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাজী হারুন অর রশীদ মিরন বলেন, 'আমাদের ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে পার্শ্ববর্তী রাগদী, মোচনা, দিগনগর ইউনিয়নের মানুষ চিকিৎসা নিয়ে আসছে। স্বাস্থ্য সেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই।'
 
গোহালা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বলেন, নিম্ন জলাভূমি বেষ্টিত আমার ইউনিয়নে ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। এদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। স্বাস্থ্য সেবার জন্য এ কেন্দ্রেই তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্র কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ও ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। টাকা খরচ করে ২৩ কিলোমিটার দূরে মুকসুদপুর উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের নেই। তাই এ জনগোষ্ঠীর ঘরের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে অনুরোধ করছি।
 
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন  ডা. তরুন মণ্ডল ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সেখানে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। এছাড়া মুকসুদপুর স্বাস্থ্য বিভাগকে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিকল্প ব্যবস্থায় সপ্তাহে অন্তত দুইদিন চিকিৎসা সেবা চালু করতে নির্দেশ দিয়েছি।
 
ইত্তেফাক/এসএস