'মোর জন্যে কিছু করেক বাবারে! মুইকি ঔষধ নাখেয়া মরিম?' কথাগুলো এক হতদরিদ্র ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার। ওই মুক্তিযোদ্ধা তার মাথায় একটি টিউমার নিয়ে ঔষধ কেনার জন্য টাকা চেয়ে এভাবেই আকুতি করছেন।
জানা যায়, ওই মুক্তিযোদ্ধা নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ বাজার এলাকার বাসীন্দা নরেশ চন্দ্র বর্মন (৭২)। তার পিতার নাম মৃত্য পূর্ন চন্দ্র বর্মন। নরেশ চন্দ্রের তিন মেয়ে এক ছেলে। এর মধ্যে দুই মেয়ে এবং ছেলের বিয়ে হয়েছে, ছোট মেয়ে স্কুলে পড়ছে। ছেলেটির সংসারে সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় সে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কোন রকম একটি ছোট চায়ের দোকান করে তার নিজের সংসার চালায়।
মুক্তিযোদ্ধা নরেশ চন্দ্র জানান, তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময ভারতের রায়গঞ্জ মুজিব ক্যাম্প ১২ নং সেক্টরে যোগদান করে সেখানে ট্রেনিং করেন। সেখান থেকে পরে তাকে পাঠানো হয় বুড়িমারি ৬নং সেক্টরে। এরপরে ৬নং সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে বুড়িমারি থেকে এসে তারা, হাতিবান্ধার বড়খাতা, আদিতমারি ও কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।
ভারতীয় তালিকা অনুযায়ী তার কার্ড নম্বর ৪১৪২০। ভারতীয় তালিকায় নাম থাকলেও, জলঢাকা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম না থাকায় এতদিনে সরকারি কোন সুবিধা পাননি। তবে এবারের যাচাই-বাছাই শেষে অনলাইনে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। কিন্তু সরকারি ভাতা এখনো পাননি।
নরেশ চন্দ্র আরো বলেন, 'যুদ্ধ শেষে যখন বাড়িতে আসছি তখন এদিকে সব শেষ। এক কেজি চাল ছিল না ঘরে, তখন থেকে শূন্যহাতে সংসারের ঘানি টানছি। এছাড়াও চার বছর আগে মাথায় ১টি টিউমার হয়েছে। এর চিকিৎসায় অনেক টাকা গেছে। গত বছর ভারতের এক হোমিও চিকিৎসককে দেখিয়েছি। তিনি শুধু একটি ঔষধ লিখে দিয়েছেন, সেটি যতদিন জীবিত আছি ততদিন খেতে হবে। প্রতি মাসে পনেরশ টাকা লাগে ঔষধটা কিনতে। টাকার আভাবে গত এক মাস ঔষধ খেতে না পাড়ায় এখন টিউমারটি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধা নরেশ চন্দ্র কান্নাজড়িত কন্ঠে এ প্রতিবেদকে বলেন, কিছু সহযোগিতা পাবার আশায় গতমাসে মুক্তিযোদ্ধার কাগজসহ জলঢাকা উপজেলার ইউএনও সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম। মাথার টিউমারটি তাকে দেখিয়ে ঔষধ কেনার জন্য কিছু সহযোগিতা চেয়েছিলাম। ইউএনও সাহেব আমার কথাগুলো শুনে বলেন, আমার এখানে কেন? আপনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কাছে যান।
এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হামিদুর রহমান বলেন, নরেশ চন্দ্র একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু সরকারি গেজেটে এখনো তার নাম আসেনি। এ কারনে তার জন্য আমার কিছুই করার নাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, তিনি আমার কাছে এসেছিলেন কিন্তু আমি ওনাকে বলেছি যে আপনার কমান্ডারকে আমার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এর পরে আর আমার কাছে কেউ আসেনি।
ইত্তেফাক/নূহু
