ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত টিম তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি একটি গোয়েন্দা সংস্থাও আলাদাভাবে তাদের মতো করে কাজ শুরু করেছে। পুলিশের তদন্তটিম বুধবার নিহত নুরসাত জাহান রাফির কবর জিয়ারত শেষে তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন। এছাড়া গতকাল তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরির্দশন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্ত টিমের প্রধান ডিআইজি (মিডিয়া) রুহুল আমিন গতকাল সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, নুসরাতের পরিবার, নুসরাতের বন্ধুরা, মাদ্রাসার শিক্ষক, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের কথা বলেছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের লোকজনের সঙ্গে এখনো কথা বলতে পারিনি। আগামীকাল (আজ) তাদের সঙ্গে কথা বলবো। আশা করি ২/১ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ঢাকায় ফিরতে পারবো।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত টিম
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। এবং এর পরবর্তী ঘটনা নিয়ে ফেনী জেলা পুলিশ যে প্রতিবেদন দাখিল করে সেটিকে পুলিশ সদর দপ্তর প্রকৃত ঘটনা বলে ধরে নিয়েছিল; কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে মহাপুলিশ পরির্দশক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ফেনী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের বিশেষ করে ঘটনার দিন যারা ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরতদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের নির্দেশে দেন।
এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী উপ-মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে সে ব্যাপারেই তদন্ত টিম কাজ শুরু করেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত
একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন প্রথম দিকে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে; কিন্তু বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা তথ্য তারা পেয়েছেন। বিশেষ করে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম এবং সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের ভূমিকা নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে সে ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থার একটি টিম গত দুইদিন ধরে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, আশা করছি আজ কালের মধ্যে আমরা আমাদের তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাব। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে আমাদের মতামত সংশ্লিষ্ট দপ্ততে পাঠাবো।
সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি এখনো বহাল তবিয়তে
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত ১০ এপ্রিল সোনাগাজী থানার তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে বদলি করা হয়েছে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন)।
