১৯৬৮ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পেয়েছিল সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র ‘২০০১: এ স্পেস ওডিসি’। পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিকের এই ছবি একটি রীতিমত কাল্ট এর মর্যাদা পেয়েছে, চলচ্চিত্র বোদ্ধারা এটিকে বিবেচনা করেন সর্বকালের সেরা ছবিগুলোর একটি বলে। ছবিটির বৈশিষ্ট্য ছিল, এতে সংলাপের পরিবর্তে শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল এবং শব্দের প্রাধান্য। তখনো পর্যন্ত সিনেমার গল্প বলার যে কৌশল, সেটাকে যেন আমূল বদলে দিয়েছিল এই ছবি। কিয়ের ডুলে এই ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এটিকে তার অভিনয় জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর একটি বলে মনে করেন তিনি।
এই ছবি তৈরির জন্য স্ট্যানলি কুবরিক জুটি বেঁধেছিলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ সায়েন্স ফিকশন লেখক আর্থার সি ক্লার্কের সঙ্গে, যিনি ছিলেন এর কাহিনীকার। দু’জনে মিলে এই ছবির চিত্রনাট্য লেখেন। সেটি করতেই তাদের সময় লেগেছিল প্রায় চার বছর। ছবিতে কিয়ের ডুলে নভোচারী ডেভিড বোওম্যানের ভূমিকায় অভিনয় করেন। কিন্তু প্রথম যখন তিনি চিত্রনাট্যটি দেখেছিলেন, তখন এই চরিত্র তার খুব পছন্দ হয়নি। ছবিটির ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ অংশ জুড়ে কেবলই নানা ভিজ্যুয়াল কেন ছিল সেটা এখনকার নির্মাতাদের কাছে রহস্য হয়ে আছে। ওই যুগে এ ধরনের ছবি তৈরির ঝুঁকি আর কোনো নির্মাতা নিতেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবির কাহিনীর শুরু কয়েক মিলিয়ন বছর আগে আফ্রিকার এক মরুভূমিতে। সেখানে একদল আদি-বনমানব একটি বিরাট পাথরের ফলক আবিষ্কার করে। এই রহস্যজনক কালো পাথরের স্তম্ভফলক থেকে অদ্ভূত সংকেত বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। এই পাথর ফলক তাদেরকে শেখাচ্ছিল কিভাবে একটি সামান্য হাঁড় বা অস্থিকে অস্ত্র হিসেবে তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়।
কয়েক মিলিয়ন বছর পরে একটি নভোযানে চড়ে বিজ্ঞানীরা যখন একটি মহাকাশ-স্টেশনে যাচ্ছেন তখন এই পাথর ফলকটিকে আবার দেখা গেল। এই মার্কিন নভোযানটি যাচ্ছিল বৃহস্পতি গ্রহের দিকে। তারা এই পাথরফলকটি এবং এর অদ্ভূত ক্ষমতা সম্পর্কে আরো খোঁজ-খবর নিতে চায়। কিয়ের ডুলে ছিলেন মূল নভোচারীদের একজন। নভোযান যখন মহাকাশের অন্ধকার ভেদ করে ছুটে চলেছে, তখন স্ট্যানলি কুবরিক যেভাবে ক্ল্যাসিকাল মিউজিক ব্যবহার করেছেন, তা তখনকার সায়েন্স-ফিকশন সিনেমার ব্যাকরণ ভেঙে দিয়েছিল। নভোচারীরা যখন ছুটে চলেছেন অজানার দিকে, নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে—তখন সেখানে এ ধরনের মিউজিকের ব্যবহার একটা নতুন মাত্রা তৈরি করেছিল। সংলাপ প্রায় নেই বললেই চলে, আর নভোযানের আরোহীদের মধ্যেও কথাবার্তা খুবই কম। কেন তারা নিজেদের মধ্যে তেমন একটা কথা বলছিল না, সেটাও ছিল এক রহস্য। তখনো পর্যন্ত কম্পিউটার জেনারেটেড স্পেশাল ইফেক্ট বলে কিছু ছিল না। ২০০১ ছবিতে সব কিছু বাস্তবেই করতে হয়েছিল। তাও এমন সুন্দরভাবে দৃশ্যগুলো কিভাবে পরিচালক ফুটিয়ে তুলেছিলেন সেটা আজো বড় কৌতুহলের বিষয় হয়ে আছে।
