ভোগান্তি দূর করতে মাঠ পর্যায়ে এনআইডি সেবা

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৫৭

নাগরিকদের ভোগান্তি দূর করতে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা (এনআইডি) মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে হারানো কার্ড জেলা পর্যায়ে প্রিন্ট করে তা সেবাগ্রহীতাদের মাঝে বিতরণ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। পর্যায়ক্রমে এনআইডি সংশোধন, নতুন ভোটারের পরিচয়পত্র উপজেলা পর্যায়ে প্রিন্ট করে তা সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য নাগরিকদের ন্যায্য সেবা প্রদান করা। ঢাকা আসার কিংবা ঢাকা থেকে এনআইডি প্রিন্ট করে নেয়ার প্রয়োজন নেই। এনআইডি সেবার ৯০ শতাংশ মাঠ পর্যায় থেকে দেয়া হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে এই সেবা কার্যক্রমে সফলতার পর তা জেলায় পাঠানো হচ্ছে। শিগগিরিই উপজেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে।

এনআইডি হারানো, সংশোধন বা নতুন ভোটারের পরিচয়পত্র সাধারণত জেলা, উপজেলা অফিস থেকে আবেদনসহ প্রেরণের পর তা কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা থেকে এতোদিন প্রিন্ট করা হতো। মাসের পর মাস অপেক্ষার পরও অনেকেই এনআইডির প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হতেন। কার্ড সংশোধন, ডুপ্লিকেট এনআইডি কার্ড সংগ্রহসহ নানা ধরনের সেবা নিতে প্রতিদিন অসংখ্য নাগরিক ভিড় করে ইসির ইটিআই ভবনে। এনআইডির সব ধরনের সেবা কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত থাকায় এক শ্রেণির অসাধু লোকের অর্থ আদায়সহ নাগরিকদের হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে স্ট্যান্টার্ড অপারেটিং সিস্টেমের (এসওপি) আওতায় এনআইডি সেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে। আলাদা সফটওয়ার প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে ১০টি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে হারানো এই কার্ড প্রিন্টের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই কার্যক্রমে সফলতার পর এখন কেন্দ্রীয় সেবার পাশাপাশি সারা দেশেই জেলা নির্বাচন অফিস থেকে নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন। বর্তমানে ৬৪ জেলার সঙ্গে ইসির কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে কানেক্টিভিটি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি জেলায় দুটি করে প্রিন্টার, লেমেনেটিং মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি কেনা হয়েছে।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক আরাফাত আরা স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা গত সোমবার সব সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- জাতীয়  পরিচয়পত্রের সেবা দোড়গোরায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে গত ১৩ জানুয়ারির মাসিক সমন্বয় সভায় হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র পুনঃমুদ্রণ সংক্রান্ত কার্যক্রম পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলাসহ বৃহত্তর জেলাগুলোতে বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে ৬৪টি জেলায়ই কানেক্টিভিটি দেয়া হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সব জেলা নির্বাচন অফিস থেকে হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র পুনঃমুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য বলা হচ্ছে।

আগামীতে ছোটখাট সংশোধন উপজেলায়, নামের বানান বা স্বামী-স্ত্রীর নাম সংশোধন জেলাতেই, মা-বাবা বা বড় ধরনের সংশোধন আঞ্চলিক কার্যালয়ে এবং ব্যাপকভাবে জন্ম তারিখ সংশোধন কেন্দ্রীয়ভাবে করা হবে। জানতে চাইলে এনআইডির পরিচালক (অপারেশন্স) আব্দুল বাতেন ইত্তেফাককে বলেন, আগামী জুন-জুলাই থেকে হারানো কার্ড উপজেলাতেই ছাপানোর পরিকল্পনা আছে। এ বছরের শেষের দিকে এনআইডি হারানো এবং সংশোধন প্রক্রিয়ায়ও মাঠ পর্যায় থেকে সম্পন্ন করা হবে।