কফি চেইন শপ স্টারবাকসের নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন হাওয়ার্ড শুলৎজ। কিন্তু চেয়ারম্যান এমেরিটাস হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবেন তিনি। আগামী ২৬ জুন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন শুলৎজ। এই ঘোষণার পরে তার আগামী নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী হিসেবে লড়ার জল্পনা আরো জোরালো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে দ্য হারেৎস।
খবরে বলা হয়, প্রায় চার দশক আগে শুলৎজের হাত ধরে ১১টি দোকান নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সিএটল ভিত্তিক মার্কিন কফি চেন স্টারবাকস। ৭৭টি দেশে তাদের ২৮,০০০-এরও বেশি শাখা রয়েছে।
২০০০ সালে স্টারবাকসের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব থেকে আগেই অব্যাহতি নিয়েছিলেন শুলৎজ। কিন্তু ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় সংস্থার অবস্থা খারাপ হওয়ায়, হাল ধরতে ফেরেন তিনি। তার পর থেকে কফি চেইনটির আয় বেড়েছে দ্বিগুণ। ভারতে টাটার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পা রাখার পাশাপাশি তারা ব্যবসা বাড়াচ্ছে চীনেও।
নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে পদত্যাগ করার কথা এক বছর আগেই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা বোর্ডকে জানিয়েছিলেন শুলৎজ। তখন থেকেই জল্পন চলছিল যে, তিনি আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে লড়বেন। তাকে প্রায়ই ডেমোক্রেটিক পার্টির একজন প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ইস্যুতে বেশ ভাল করে জড়িয়ে পড়েছেন শুলৎজ। প্রায়ই তার মুখে শোনা যায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা। সোমবার প্রথমবারের মতো তিনি স্বীকার করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার কথা চিন্তা করে থাকতে পারেন তিনি।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে শুলৎজ বলেন, আমি আর কোন গুঞ্জন ভরা শিরোনাম সৃষ্টি না করে আপনাদের সঙ্গে সত্য কথাটা বলতে চাই। অনেকদিন ধরেই আমি আমাদের দেশ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দেশে আমাদের মধ্যে বাড়তে থাকা বিভাজন ও বিশ্বে আমাদের অবস্থান নিয়ে আমি চিন্তিত।
তিনি আরো বলেন, আমার পরবর্তী অধ্যায়ে আমি যেটা করতে চাই সেটা হচ্ছে খুঁজে বের করা যে, আমি ফেরত দেয়ার জন্য কোন ভূমিকা পালন করতে পারি কি না। আমি এখনো নিশ্চিত নই সেটা কি হতে পারে।
তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করবেন কি না সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে শুলৎজ বলেন, আমি বেশ কিছু অপশন বিবেচনা করে দেখবো বলে ভাবছি। আর সেসব অপশনের মধ্যে জনসেবাও আছে। কিন্তু এখনো ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে আমি অনেক দূরে।
ইত্তেফাক/ জেআর
