ঈদযাত্রা বহরে ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সংগঠনের এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর ঈদে ফিটনেস বিহীন, লক্কড়-ঝক্কড় বাস, ট্রাক, লেগুনা, টেম্পু, মাইক্রোবাস, কার, নছিমন-করিমন ও সিটিসার্ভিসের বাস-মিনিবাস দূরপাল্লার বহরে যাত্রী পরিবহণে নেমে পড়ে। এসব যানবাহন রাস্তায় নষ্ট হয়ে যানজট ও ভোগান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। বিগত ঈদুল ফিতরে ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত ৮৪৮ জন আহত হয়েছিল। এবারের ঈদে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে প্রায় ৩ লক্ষাধিক যানবাহন ফিটনেস নেই, ৫ লক্ষ ইজিবাইক, ৬০ হাজার অটোরিকশা ৭ লাখ ব্যটারি চালিত রিকশা ২ লক্ষ নছিমন করিমন, ৫ লক্ষাধিক মোটরসাইকেল প্রতিদিন জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচল করছে। এইসব যানবাহন দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের গতি কমানোর পাশাপাশি যানজটের সৃষ্টি করছে। এসব অযোগ্য যানবাহন এখনি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সড়ক-মহাসড়কের প্রতি ইঞ্চি বেদখল মুক্ত করে দ্রুত যানবাহন চলাচলে উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, এবারের ঈদে নৌ-পথে ভয়াবহ দুর্যোগপূর্ণ মৌসুম চলছে। কিন্তু প্রতিবছর ঈদে লঞ্চগুলো ধারণ ক্ষমতার ৫-৬ গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করে। ইতোমধ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমরা এ ঘোষণা বাস্তবায়ন দেখতে চাই, এছাড়া নৌ-পথে অতিরিক্ত পানির কারণে বয়া, বাতি সিগন্যাল মুছে যাওয়ায় অনেক নৌ-পথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব নৌ-পথে ফিটনেসবিহিন, ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তারা।
বক্তব্য রাখেন, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ন কবির হিরু, পাথওয়ের নিবার্হী পরিচালক শাহিন, মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদ, অনলাইন এক্টিভিষ্ট ফোরাম সভাপতি কবির চৌধুরী তন্ময়, যাত্রী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা সামসুদ্দীন চৌধুরী, ন্যাপ ভাসানির সভাপতি মোস্তাক খান ভাসানি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী হাওলাদার প্রমুখ।
ইত্তেফাক/এমআই
