লংগদুতে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুরের এক বছরেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৮, ০৩:২৭
গত বছর ২ জুন নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতিতে রাঙামাটির লংগদুতে সাম্প্রদায়িক হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, মালামাল লুট ও ভাঙচুরের ঘটনায় এক বছরেও সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির উল্লেখযোগ্য বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ঐ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৩৪জন আসামির মধ্যে ১জন বাদে সকলেই জামিন নিয়ে বের হয়ে আসায় বিচারের বাণী নীরবে কাঁদছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার লংগদুর অগ্নিসংযোগ ও সামপ্রদায়িক হামলার এক বছর, গৃহনির্মাণসহ সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব অভিযোগ তোলেন। ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, আইইডি, জনউদ্যোগ ও কাপেং ফাউন্ডেশন’ যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
 
কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, লংগদুতে ১৯৮৯ সালে সাম্প্রদায়িক হামলায় ৩০জন আদিবাসীকে হত্যা এবং অনেকগুলো গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনার বিচার হলে ২৮ বছর পর একই এলাকায় এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। তাই তিনি এইসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের বিচারের আওতায় আনার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসীদের ন্যায়সঙ্গতভাবে পুনর্বাসনের দাবি জানান।
 
ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, লংগদু, নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জ, রামু এসব অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। এগুলো এখন জাতীয় কলঙ্কে রূপ নিয়েছে। এদেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকারের আমলে কিংবা স্বৈরাচার সরকারের আমলেও এসব ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের সময়েও এসব ঘটনার কোনো বিচার হচ্ছে না।
 
কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা মূল প্রবন্ধে বলেন, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে গত বছর ১ জুন দুষ্কৃতকারীদের হাতে নিহত মোটরসাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ উদ্ধারের পর নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতিতে আদিবাসীদের গ্রামে যে সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে তার সুষ্ঠু বিচার এখনও হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি পরিবারগুলোকে আরও ৩ বছর রেশন প্রদান ও বাড়ি-ঘর নির্মাণের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার দাবি জানান ।
 
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৩৪ জন আসামির মধ্যে ১ জন বাদে সকলেই জামিন নিয়ে বের হয়ে আসায় ক্ষতিগ্রস্তরা বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন।
 
আইইডি-এর নির্বাহী পরিচালক, নুমান আহমেদ খান বলেন, লংগদু ঘটনার এক বছর অতিবাহিত হলেও কেন আমরা সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য একটি ঘরও নির্মাণ হয়েছে এমন চিত্র দেখতে পারলাম না।
 
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম-এর সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং লংগদুর ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, আদিবাসীদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে তার কোনো বিচার হয় না। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে কিন্তু একই রাষ্ট্র আদিবাসীদের সঙ্গে যে আচরণ করছে সেটা মানবিক নয় দানবিক। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ-এর আহ্বায়ক ডা. মুশতাক হোসেন।