হতাশায় শুরু ‘বড়দের’ বিশ্বকাপ

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৮, ১১:৩৬
 
ফেবারিট তত্ত্বে সবার ওপরে ছিলো জার্মানি। এরপর যথাক্রমে- ব্রাজিল, স্পেন ও আর্জেন্টিনা। রাশিয়া বিশ্বকাপ একটা চমক দেখাবে বলে যেনো আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলো। বিশ্বকাপ শুরু হতে না হতেই তাই জুয়াড়িদের মাথায় হাত। যার যার প্রথম খেলায় ফেবারিটা সকলেই কাত হয়ে গেছে। হট ফেবারিট জার্মানি তো ম্যাচই হেরে গেছে মেক্সিকোর কাছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ড্র করেছে বিশ্বকাপে নবাগত আইসল্যান্ডের সাথে। ব্রাজিল ও স্পেনের ব্যাপারটাকে ঠিক অঘটন বলা যায় না। বেশ ভালো দুটি দলের বিপক্ষে খেলেছে তারা প্রথম ম্যাচ। তারপরও পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ড্র রীতিমতো হতাশাজনক ফলাফল দলগুলোর জন্য।
 
শুরুটা করেছে স্পেন। যদিও পর্তুগাল এখন র‌্যাংকিংয়ের হিসাবে এগিয়ে থাকা দল। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, বিশ্বকাপে স্পেন তাদের চেয়ে অনেক ফেবারিট দল। কিন্তু খেলার চার মিনিটেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন। এরপর থেকে খেলাটা হয়েছে রোনালদো বনাম স্পেন। স্পেনের কস্তা দারুণ ফুটবল খেলেছেন। কিন্তু সবাই ম্লান হয়ে গেলো এক রোনালদোর কাছে। একটা সময় পর্তুগাল ৩-২ গোলে পিছিয়ে পড়েছিলো। কিন্তু রোনালদোর ম্যাজিক বাকি ছিলো। ৮৮ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ড্র নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়লেন।  এর পরের রাতে আর্জেন্টিনা শিকার হয়েছে আইসল্যান্ড নামে এক রূপকথার কাছে। আইসল্যান্ড ফুটবল বিশ্বে নতুন এক চমকের নাম। বছর ছয়েক আগেও এই দলটির ফিফা র‌্যাংকিং ছিলো ১৩০-এর ওপরে। সেই দলটি গত কয়েক বছর ধরে হু হু করে উঠে আসছে। এখন তাদের ফিফা র‌্যাংকিং ২৪। গত ইউরোতে তারা নিজেদের প্রথম কোনো মেজর টুর্নামেন্ট খেলেছে। সেখানেই পর্তুগাল ও হাঙ্গেরির সাথে ড্র করে এবং অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে গিয়েছিলো দ্বিতীয় রাউন্ডে। সেখানে হারিয়েছিলো ইংল্যান্ডকে।
 
আইসল্যান্ডের এই রূপকথার যেনো শেষ নেই। এবার এসেছে তারা নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে। দ্বিতীয় দিনে তাদের প্রতিপক্ষ ছিলো বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ইউরোতে আইসল্যান্ড আটকে দিয়েছিলো রোনালদোর ১১ শট। সেদিন আটকে দিয়েছে মেসির ১০ শট! ম্যাচের প্রথম গোল আর্জেন্টিনাই করেছিলো। একক স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে নামা সার্জিও আগুয়েরো গোল করেছিলেন ১৯ মিনিটে। খেলার ২৩ মিনিটেই সে গোল শোধ করে দেন আলফেরো ফিন বোগাসন। এরপর থেকে আর্জেন্টিনা শত চেষ্টা করেও আইসল্যান্ডের বরফ গলাতে পারেনি। এমনকি মেসি নিজে একটা পেনাল্টিও মিস করেছেন।
 
পরেরদিন বিশ্বকাপ দেখেছে সত্যিকারের প্রথম অঘটন। মেক্সিকোর কাছে ম্যাচ হেরেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও এবারের সবচেয়ে বড় ফেবারিট জার্মানি। বলা হচ্ছে, জোয়াকিম লোর দল বিশ্বকাপ ধরে রাখতেই এসেছে। শুরু থেকে আক্রমণে থাকা জার্মানি অবশ্য সেই কথার প্রমাণ দিতে চেষ্টা করছিলো। কিন্তু জার্মানির গত বিশ্বকাপে যেটা ছিলো সবচেয়ে বড় শক্তি, সেই ডিফেন্স ও ফিনিশিং বেশ এলোমেলো লাগছিলো। মেক্সিকো কাউন্টার অ্যাটাকে খেলছিলো। তাদের প্রতিটা কাউন্টার অ্যাটাক জার্মানিকে ভুগিয়েছে। ৩৫ মিনিটে হারভিং লোজানো অসাধারণ এক কাউন্টার অ্যাটাকে জার্মানির ডিফেন্সকে একদম নিষ্ক্রিয় করে বল জালে পাঠিয়ে দেন। এরপর জার্মানি চেষ্টা করেছে বটে; কিন্তু মেক্সিকোর আঁটোসাঁটো ডিফেন্সের কাছে সেই চেষ্টার খুব অর্থ ছিলো না।
 
আর রবিবার রাতে হতাশার শিকার হয়েছে ব্রাজিল। র‌্যাংকিং অনুযায়ী সুইজারল্যান্ড খুব খারাপ দল নয়। ব্রাজিলের র‌্যাংকিং ২, সুইজারল্যান্ডের ৬। তারপরও যেহেতু ব্রাজিল বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার, আশা ছিলো, তারা জয় দিয়েই শুরু করবে। ফিলিপ কৌতিনহো এক জাদুকরী গোল করে সেই আশাকে বাস্তবে পরিণত করেছিলেন। কিন্তু স্রোতের বিপরীতে ৫০ মিনিটে স্টিভেন জুবের সমতা ফেরান খেলায়। এরপর খেলা জুড়ে নেইমারের চেষ্টা এবং অজস্র ফাউলের শিকার হওয়া ছাড়া আর বলার মতো কিছু ছিলো না।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ