মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার মতিগঞ্জ এলাকায় বিলাস নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি সাকার মাছ। কালো বর্ণের শরীরে হালকা হলুদ রংয়ের ছাপ লাগানো ১ ফুট লম্বাকৃতির মাছটির কাঁটাযুক্ত শরীরে কোনও আঁশ নেই, মুখমণ্ডল বেশ বড় এবং মুখটা নীচের দিকে দেখা যায়।
IMG0
মাছটির ওজন আনুমানিক দুই কেজি। গত ১৯ জুন মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় জাহাঙ্গীর মিয়ার জালে মাছটি ধরা পড়ে।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার বিকেলে জাহাঙ্গীর মিয়ার জালে মাছটিকে দেখতে পেয়ে বিলাসের পাড়ে জেলেদের মধ্যে হৈ-চৈ শুরু হয়ে যায়। পরে মাছটি স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যান জাহাঙ্গীর মিয়া। প্রথমে মতিগঞ্জ বাজার, পরে সাতগাঁও ও লছনা বাজারে মাছটিকে নিয়ে অনেক্ষণ ঘুরেন তিনি। সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম আলিশারকুল গ্রামের আদর মিয়া শখের বশে সাড়ে তিনশ টাকায় মাছটিকে কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। রাতভর বড় একটি পাত্রে পানি ভর্তি করে সেখানে মাছটিকে জিইয়ে রেখে পরদিন গতকাল ২০ জুন বুধবার সকালে বাড়ির পুকুরে মাছটিকে ছেড়ে দেন।
এসময় খবর পেয়ে বিরল প্রজাতির এই মাছটিকে এক নজর দেখতে আদর মিয়ার বাড়িতে আশপাশের লোকজন ভিড় করে।
এ ব্যাপারে জেলে জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, জালে হঠাৎ করে এ ধরনের একটি অপরিচিত মাছ দেখে প্রথমে চমকে ওঠেন তিনি। পরে এটিকে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যান। এ সময় সাতগাঁও বাজারের পল্লী চিকিৎসক মলয় সরকার মাছটির ছবি তুলে তার ফেসবুকে প্রচার করেন। খবর পেয়ে মাছটিকে দেখতে ও কিনতে অনেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
মাছটির ক্রেতা আদর মিয়া বলেন, অদ্ভুত ধরনের এই মাছটিকে তিনি জীবনে প্রথম দেখছেন। তাই এটিকে বাড়ির পুকুরে পালনের উদ্যেশ্যে কিনে এনেছেন।
শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানান, এটি দেশীয় কোন মাছ নয়। এটি একটি বিদেশি জাতের সামুদ্রিক মাছ। মাছটির নাম সাকার মাছ। এই প্রজাতির মাছগুলোকে সাধারণত এ্যাকুরিয়ামের দোকানে কিংবা বাসা-বাড়িতে সাজানো শো-পিসের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এরা সাধারণত শেওলা ও পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করে।
এ জাতীয় মাছ পুকুরে চাষাবাদ কিংবা খাওয়ার উপযোগী নয় বলে জানান তিনি।
ইত্তেফাক/নূহু
